অনিয়মিত মাসিক হওয়ার কারন, এর প্রতিরোধে যা করনীয় সকলের

2
423
অনিয়মিত মাসিক
অনিয়মিত মাসিক

অনিয়মিত মাসিক এটা মেয়েদের সাধারণ সমস্যার একটি। মাসিক প্রক্রিয়ার এই অনিয়মকে চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় ডিসমেনোরিয়া বলা হয়। প্রতি মাসে এটি হয় বলে এটিকে বাংলায় সচরাচর মাসিক বলেও অভিহিত করা হয়। মাসিক রজঃস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীর গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে এই মাসিক রজঃস্রাব আটাশ দিন পর পর হবে। তবে দু-একদিন আগে-পরে হতে পারে। দু-একদিনের হের-ফের স্বাভাবিক। ঋতুস্রাব সমস্যা শুরু হলে প্রথমে গর্ভধারণ টেস্ট (প্রেগনেন্সি টেস্ট) করা দরকার। শারীরিক ওজন বাড়লে বা কমলে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণঃ

  • শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা হয়
  • বিবাহিত নারীরা হঠাৎ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ বন্ধ করে দিলে হতে পারে।
  • বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের ফলে হতে পারে।
  • শরীরের রক্ত কমে গেলে অর্থাৎ এনিমিয়া হলে অনিয়মিত মাসিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • অনেকের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে গেলে এই সমস্যা হয়।
  • জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে হতে পারে।
  • সহবাসের সময় পুরুষের শরীর থেকে আসা অসুখের কারণে হতে পারে। যেমন : গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি।
  • শরীরে টিউমার ও ক্যানসার ইত্যাদি অসুখে হতে পারে।
  • প্রি মেনোপজের সময় হয়ে থাকে।
  • যেসব নারী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান সেসব নারীর অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।
  • যে সকল তরুণী মাসিকের আগে ও পরে টেনশনে ভোগের তাদের সমস্যা দেখা দেয়।

সমস্যাঃ

১) প্রতিমাসে নিয়মিত ঋতুস্রাব হয় না। এক মাসে রক্তপাত হলে হয়তো আরেক মাসে হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে দুই-তিন মাস পরপর হয়ে থাকে।
২) ঋতুস্রাব বেশি সময় ধরে হয়। কখনো অল্প রক্তপাত হয় আবার কখনোও বেশি হয়।
৩) সন্তান ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ হতে পারে।
৪) এ ছাড়া মেজাজ খিটখিটে থাকা এবং অস্বস্তিবোধ তৈরি হয়।

রোগীর লক্ষণঃ

ডিসমেনোরিয়া ব্যথার একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য রোগের ব্যথা থেকে আলাদা। এই ব্যথা মাসিক শুরু হবার কয়েক ঘণ্টা আগে শুরু হয় ও ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা স্থায়ী হয়। কখনও পুরো একদিনও স্থায়ী হতে পারে। ব্যথা প্রথমে পেটের দিকে থাকে এবং পরে উরুর ভিতরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যথার তীব্রতায় চেহারা ফ্যাকাসে দেখায়, ঘাম নির্গত হয়। বমি বমি ভাব তীব্র ব্যথায় বমি অবশ্যই হবে। পাতলা পায়খানাও হতে পারে। কখনও কখনও পায়খানা/প্রস্রাব করতে কষ্ট হতে পারে।

প্রতিরোধঃ
১. স্বাস্থ্যহীনতা ভগ্নস্বাস্থ্য বা অপুষ্টির শিকার হয়ে থাকলে তা দূর করা হবে। 
২. বিষণ্ণতায় মানসিক কষ্ট, কুসংস্কার, ভুল ধারণা দূর করতে হবে। 
৩. আক্রান্ত তরুণীদের বোঝাতে হবে যে মাসিক বা ঋতুস্রাব কোন রোগ নয় বরং প্রত্যেক নারীরই শরীরবৃত্তিক প্রক্রিয়া। 
৪. ঘরে-বাইরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করতে হবে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব হলে যা করনীয়ঃ
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং নিজেকে ঠান্ডা রাখুন। শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। নিয়মিত শরীর চর্চা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করুন। ওজন বেশি থাকলে ওজনও কমাতে হবে। নিয়মিত কাঁচা পেপে খেলে অনিয়মিত মাসিকের জন্য অনেক উপকারী। তবে যারা গর্ভবতী তাদের কাঁচা পেপে না খাওয়াই ভাল, এতে গর্ভপাত হতে পারে। জননাঙ্গের যক্ষা, গণোরিয়া, সিফিলিস, এইডস, ডায়াবেটিস প্রভৃতির কারণে হতে পারে। মাসিকের সময় প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম ও আয়রনের চাহিদা তৈরি করে। পিরিয়ড এক বা দুই সপ্তাহ আগে হলে গাজর, কলা, আপেল, পেয়ারা, শসা খাবেন এবং এই সমস্যা দূর করার জন্যই অল্প অল্প বারে বারে খাবার খান। ত্যাগ করুন সফট-ডিঙ্ক, কফি ও চা।

আঙুর ফলও পিরিয়ড রেগুলার করার জন্য খুবই কার্যকরী। প্রতিদিন আঙুরের জুস খেলে বা খাবারের তালিকায় আঙুর থাকলে ভবিষ্যতে মাসিক নিয়মিত রাখতে সহায়তা করে। গাজরে রয়েছে প্রচুর বেটা ক্যরোটিন, যা মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে। এলোভেরা বা ঘৃতকুমারীর শাস রূপচর্চার পাশাপাশি মাসিক নিয়মিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা অযথাই টেনশন বেশি করে তাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি হয়। কলা, তিল, তিসি বীজ, সবুজ শাকসবজি বেশি করে খাওয়া উচিত। প্রতিদিন ১০-১২ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পিরিয়ডের সময় হরমনের অনুপাত ঠিক থাকে না। তাই পিরিয়ড পিছিয়ে যায়। যখনই পিরিয়ড পিছিয়ে যায় তখনই আপনি খেতে পারেন দুধ যা পিরিয়ডের অনুপাত ঠিক রাখে। তবে পরিহার করতে হয় তেলজাতীয় খাবার ও ডিমের কুসুম।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

১) যদি বছরে তিন বারের বেশি ঋতুস্রাব না হয়।
২) ঋতুস্রাব ২১ দিনের আগে এবং ৩৫ দিনের পরে হয়।
৩) ঋতুস্রাবের সময় বেশি রক্তপাত হলে।
৪) সাত দিনের বেশি সময় ধরে ঋতুস্রাব হলে।
৫) ঋতুস্রাবের সময় খুব ব্যথা হলে।

উপদেশঃ
হোমিও চিকিৎসায় অনিয়মিত মাসিক ভাল করা সম্ভব।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

2 COMMENTS

  1. আমার অনিয়মিত মাসিক হয়, তাই আপনার লেখা টা খুব মনযোগ দিয়ে পড়লাম। আমার জন্য দোয়া করবেন

    • সুইটি ইসলাম আখি, আপনার সুস্থ্যতা আমাদের একান্ত কাম্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here