আপনার শিশুর নিউমোনিয়া হলে তা মুক্তির জন্য আপনার পদক্ষেপ কি?

0
129
শিশুর নিউমোনিয়া

সঠিক সময়ের পূর্বে শিশুর জন্ম, সাধারনের থেকে ওজন কম, অপুষ্টিতে ভুগলে এবং সঠিক সময়ে টিকাদান না দিলে যে কোন শারীরিক অসুস্থতায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে শিশু এমনিতেই নিউমোনিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া পারস্পরিক সংস্পর্শ থেকে, হাসপাতাল থেকে, বাতাসের জীবানু দ্বারা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হতে পারে আপনার শিশু। নিউমোনিয়া ছোঁয়াচে একটি রোগ। যে কোন আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগের জীবানু। একটি সুস্থ শিশু আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে নিয়ে গেলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা যে কোন জিনিসের মাধ্যমে শিশুর শরীরে এই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। শিশুর শরীরে সাধারনত নাক ও মুখ দ্বারা ফুঁসফুঁসে ঢুকে যেতে পারে। আসুন নিম্নে এই রোগের আরও বিস্তারিত জেনে নিই।

নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণঃ
ঘনঘন শিশুর জ্বর হবে, খুব কাশি অথবা শ্বাসকষ্ট হবে, অস্থিরতা, যে কোন খাবারে অরুচি, বমি করা বা বমি বমি ভাব হওয়া, পেটে ব্যথা সহ পাতলা পায়খানা, শ্বাস নেয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভিতরে সামান্য ঢুকে বা নিচু হয়ে যেতে পারে, খিঁচুনি হতে পারে। শ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর নাক লাল হয়ে যাবে এবং নাক ফুলে যাবে, ঠোঁটের চারপাশ নীল দাগ দেখা দিবে, শিশু অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।

পরীক্ষা নিরীক্ষাঃ
সাধারনত শিশুদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা খুবই কষ্টসাধ্য তার পরেও পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। সর্বপ্রথম আপনি একটি চিৎিসকের পরামর্শ নিবেন তার পরে লক্ষণ দেখে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করাবেন। যেমন- বুকের এক্স-রে, রক্তের সি,বি,সি, হরমোন, টি.এস.এইচ, কফ বা শিশুর লালা পরীক্ষা করাবেন।

চিকিৎসাঃ
শিশুর লক্ষণ ভেদে চিকিৎসকরা সবসময় চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তারপরেও শিশু যদি খাবার খেতে পারে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে তাহলে বাড়িতে রেখে সামান্য কিছু চিকিৎসা দিবেন। যেমন, খাওয়ার ওষুধ, প্রোটিনযুক্ত খাবার, নিয়মিত পরিচর্চা দিয়ে চিকিৎসা করবেন। আর যদি মারাত্মক অবস্থা দেখা দেয় তাহলে শিশুকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে শিশুকে অক্সিজেন প্রয়োগ করতে হতে পারে।

প্রতিরোধে আপনার যা করনীয়ঃ
১) শিশু অসুস্থ্য হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন।
২) বাড়ির সবাইকে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ভালো ভাবে ধুতে হবে।
৩) শিশুকে সাধারনত কোন ভাবেই নাকে, মুখে বা ঠোঁটে চুমু দেয়া যাবে না।
৪) নিযমিত শিশুর জামা কাপর বা জিনিপত্র গরম পানি ও স্যাভলন দিয়ে ধুতে হবে।
৫) লক্ষ্য রাখতে হবে যে শিশুর কোন কিছু ভেজা না থাকে যেমন জামা কাপর বা বিছানা পত্র।
৬) শিশুর সামনে কোন ভাবেই হাঁচি দেয় যাবে না, তাতে টিস্যু ব্যবহার করতে হবে।
৭) শিশুকে জীবানু মুক্ত রাখতে হবে, যেমন কোন মাছি, পোঁকা-মাকড়, মশা শিশুর দেহে বসতে না পারে।
৮) শিশুকে সবসময় বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং যতটুকু সম্ভব প্রোটিনযুক্ত ও সুষম খাবার খাওয়াতে হবে।
৯) মায়েরা সবসময় পরিষ্কার থাকার চেষ্টা করবেন, যেমন ভালো ভাবে হাত ধোয়া পরিষ্কার পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করা এবং পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা।
১০) শিশুকে কোন ভাবেই ঢেকে রাখা যাবে না, যতটা সম্ভব খোলা মেলা রাখতে হবে। যাতে শিশু মুক্ত ভাবে অক্সিজেন গ্রহন করতে পারে।

শিশু, তরুণ এবং স্বাস্থ্যবান যে কোন মানুষের নিউমোনিয়া হতে পারে। বাংলাদেশে গড়ে প্রতিবছর নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে শতকরা ২২ জন শিশু মারা যায়। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিউমোনিয়া জনিত এ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর হ্যা, শিশুর সামনে কোন প্রকার মাদক বা সিগারেট, কয়েলের ধোঁয়া রাখা যাবে না।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here