করলার ৮টি পুষ্টিগুণ, করলার বিভিন্ন উপকারিতা

0
246
করলা খাওয়ার উপকারিতা

করলা বা কল্লে, উচ্ছে একটি তিতা প্রকৃতির সবজি। বাংলাদেশের সবত্র করলা পাওয়া যায়। করলার রস কৃমি নাশক হিসাবে বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। করলাতে প্রচুর পরিমানে বিটা ক্যারোটিন আছে তাই করলা এলার্জি নাশক ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রক হিসাবে কাজ করে। প্রতিদিন নিয়মিত করলা খেলে শরীরের রক্তে সুগারের পরিমান নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। অনেকে করলা খেতে পারে না অথবা পছন্দ করে না। কিন্তু করলা এমন একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার যা কেউ একবার জানলে করলা আর বাদ দিবে না। চলুন জেনে নেয়া যাক

করলার উপকারীতা

১) করলাতে বিটা ক্যারোটিন থাকার ফলে চোখের ছানি পড়া ও চোখে কম দেখা বিরুদ্ধে কাজ করে। যাদের চোখের রেটিনাতে নানা রকম সমস্যা হয় এবং আছে তারা নিয়মিত করলা খেলে রেটিনার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

২) করলাতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম আছে। এছাড়াও আছে লৌহ, খনিজ, ভিটিমিন-এ, সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা নারী পুরুষের বার্ধক্য নিয়ন্ত্রন রাখতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

৩) করলা শরীরে রক্ত উৎপাদন বা হিমোগ্লোবিন তৈরীতে সাহায্য করে। তাছাড়া করলা হার্ট ও উচ্চ রক্তচাপ সর্বদা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম। রক্তের ভাইরাস ও রোগ জীবানু প্রতিরোধ করে থাকে।

৪) করলা এলার্জি, চর্মরোগ ও দাদের বিরুদ্ধে কাজ করে। যাদের শরীরে চর্মরোগ বিশেষ আছে তারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করলার রস বা জুস মধুর সাথে মিশিয়ে পান করলে চর্মরোগ দূর হয়।

৫) ভিটামিন সি, এ আমাদের শরীরে প্রোটিন ও আয়রন যোগান দেয় এবং ব্যাকটেরিয়ার, ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে থাকে। করলা একটি আশযুক্ত খাবার তাই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে করলার ভুমিকা আছে।

৬) করলায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম যা আমাদের শরীরে অত্যন্ত জরুরী। আমাদের শরীরে কোথাও কেটে গেলে করলা রস করে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিলে রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

৭) অনেকের দাঁতে ক্ষয় আছে তারা নিয়মিত করলার রস ও লবন মিশিয়ে অল্প উত্তপ্ত করে কুলি করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ দূর হবে এবং দাঁত মজবুত ও সাদা হবে। করলার ক্যালসিয়াম দাঁতের মাড়ির ক্ষয়রোধ, মুখের ঘা ও ব্যকটেরিয়া সহ রোগ জীবাণু দূর করে থাকে।

৮) অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মদ পান করার কারনে লিভার ড্যামেজ হয়ে গেলে করলা পাতার রস সকালে ও রাতে দুই চা চামচ করে সেবন করলে লিভারের কার্যক্ষমতা ফিরে আসবে। এছাড়াও অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করলার পাতার রস দারুন কাজ করে।

করলা একটি অ্যান্টিবায়েটিক সবজি। তিতা প্রকৃতির সবজি হওয়ার কারনে অনেকে করলা দূরে সরিয়ে রাখেন। তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে আপনি নিয়মিত করলা খাওয়া অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন হতে পারে সকালে সুজি আটা বা গমের আটার রুটির সাথে করলা ভাজি খেতে পারেন। তবে করলা ভাজি করতে গেলে বেশি পরিমান তেল দেয়া যাবে না এবং করলার বিঁচি ফেলে দেয়া যাবে না। আচারের মত করে ভেজে করলা রুটির সাথে খেলে আপনার শরীরের কার্যক্ষমতা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে এবং এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার ও পোষ্টের নিচে আপনার মতামত দিয়ে সাথেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here