কালোজিরা খেলে কি হয়, কালোজিরা তেলের গুনাগুণ

0
349
কালোজিরা

হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলে গেছেন কালোজিরা সকল রোগের মহাঔষধ। কালোজিরা একটি মৌসুমী ভেষজ। কালোজিরা দেখতে কালো ধরনের এবং তিলের মত আকৃতির হয়ে থাকে। কালোজিরার ইংরেজি নাম Fennel flower এবং বৈজ্ঞানিক নাম Nigella Sativa Linn করা হয়েছে। কালোজিরা আয়ুর্বেদী, ইউনানী ও কবিরাজী চিকিৎসাতে ব্যবহার হয়ে থাকে। তিন কোনা সামান্য এই বীজের হাজারো রকম গুনাগুণ আছে তাইতো একে মহাঔষধ নামে নামকরন করা হয়েছে। কালোজিরা সারা পৃথিবীর সর্বত্র পাওয়া যায় এবং রান্না ও ভর্তা হিসাবে বহুল পরিমানে ব্যবহার হয়ে থাকে।

প্রাচীণ যুগ থেকে কালোজিরা ব্যবহার হয়ে আসছে। কালোজিরার বীজ থেকে মুলত কালোজিরা তেল তৈরী করা হয়। “বুখারী শরিফ” এ উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তোমরা কালো জিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই সকল রোগের নিরাময় ইহার মধ্যে নিহিত রয়েছে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া’।

কালোজিরাতে ১০০+ উপাদান আছে যেমন ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল বাকিটুকু চর্বি। এছাড়া কালোজিরার তেলের মুল উপাদান নাইজেলোন, থাইমোকিনোন এবং লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিংক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, ভিটামিন-সি, ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট ছাড়াও জীবাণু নাশক বিভিন্ন রকম হাজারো উপাদানসমূহ।

কালোজিরার কার্যকারীতা

চোখের সমস্যাঃ যাদের চোখের ছানি পরে, চোখে ঝাঁপসা দেখা, চোখ লাল হওয়া ও চোখের কর্নিয়াতে সমস্যা সহ রাতকানা দূর করে কালোজিরা।

মেধা শক্তি বর্ধকঃ সকালে ও রাতে ঘুমানোর পূর্বে কমলা লেবু বা পুদিনা পাতার রসের সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে খেলে মেধা শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া যারা অতিরিক্ত চিন্তা করে থাকে তাদের জন্য বেশ উপকারী।

মাথা ব্যথাঃ যাদের প্রচুর মাথা ব্যথা হয়ে থাকে তাদের জন্য কালোজিরার তেল খুবই কার্যকারী। মাথা ব্যথা হলে ১ চা চামচ তেল ভালোভাবে মাথার মধ্যেখানে মাখলে মাথা ব্যথা দুর হবে এবং কপাল ব্যথা করলে বাতাবী লেবুর সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে কপালে নিলে কপাল ব্যথা দূর হবে।

জ্বর, সর্দি ও কাশিঃ এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে তিন থেকে চারদিন সেবন করলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি ও কাশি দূর হবে। বুকে কফ জমে থাকলে কালোজিরার তেলের সাথে রসুন মিশিয়ে একটু গরম করে বুকে মালিশ করলে কফ উঠে যাবে।

লিঙ্গের সুস্থ্যতাঃ অনেক পুরুষ আছেন হস্তমৈথুন করার ফলে লিঙ্গ আঁকা বাঁকা হয়ে গেছে। নিয়মিত মধুর সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে রাতে লিঙ্গতে লাগালে এক মাসের মধ্যে লিঙ্গ শক্তিশালী, মজবুত ও সোজা হবে।

গাঢ় বীর্যঃ অকাল বীর্যপাত ও বীর্য পাতলা রোধ করতে কালোজিরা অত্যন্ত কার্যকারী। প্রতিদিন রাতে কালোজিরা ও মধু একসাথে মিশিয়ে খেলে বীর্য গাঢ় হবে ও অকাল বীর্যপাত দূর হবে।

হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টঃ যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য কালোজিরা অধিক বেশি উপকারী। প্রতিদিন খাবারের সাথে কালোজিরার ভর্তা খাবেন। আপনার হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার অবসান ঘটবে।

চর্মরোগঃ শীত কালে প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষ চর্মরোগে ভুগে থাকেন। তাই কালোজিরার সাথে কাঁচা হলুদ একসাথে মিহি করে নারীকেল তেল দিয়ে ক্ষত স্থানে লাগালে চর্মরোগ দূর হয়।

অনিয়মিত মাসিকঃ অনেক নারীরা অনিয়মিত মাসিকের সমস্যাতে ভুগে থাকেন। তারা প্রতিদিন সকালে কালোজিরার তেলের সাথে কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে সেবন করলে মাসিক নিয়মিত হয়।

দাঁত ব্যথাঃ দাঁত ব্যথা হলে কালোজিরা গুড়ো ও সরিষার তেল মিশ্রিত করে একটি কাপড়ে জরিয়ে আগুনে উত্তপ্ত করতে হবে। এরপরে যে দাঁত ব্যথা করছে সেই দাঁত সোজা মুখের ত্বকে সেক বা ভাপ দিতে হবে। খুব দ্রুত দাঁত ব্যথা দূর হবে এবং দাঁতে কোন প্রকার পুঁজ জমে থাকলে তা বেড়িয়ে যাবে।

চুলপড়া সমস্যাঃ যাদের অতিরিক্ত চুল পরে তারা আমলকির সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে মাথায় ম্যাসেজ করুন ও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুলপড়া সমস্যা দূর হবে।

উপরোক্ত বিষয় ছাড়াও কালোজিরার হাজারো গুনাবলি আছে যা আগামী পর্বে আলোকপাত করা হবে।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here