কুকুরে কামড়ালে করণীয়, কুকুরের কামড়ের প্রাথমিক চিকিৎসা

0
196
কুকুরে কামড়ালে করনীয়

বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে কুকুর নেই। কুকুর সাধারণত উপকারী প্রাণী হিসেবে পরিচিত। কুকুর কামড় দিলে সঠিক চিকিৎসা না করলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কুকুরের কামড়ে ঠিকমত চিকিৎসা না করার কারণে অনেকের জীবন হয়ে উঠে ভয়াবহ। কুকুরের কামড়ে খুব দ্রুত মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পরে যে ভাইরাস তার না র‌্যাবিস ভাইরাস। নিম্নে কুকুরে কামড় দিলে জরুরি ভিত্তিতে আপনার যা করণীয় তা আলোচনা করা হলো।

র‌্যাবিস ভাইরাসের লক্ষণঃ

১) কুকুর বিড়াল কামড় দিলে সাধারনত সবাই ভয় পেয়ে যায়।
২) ক্ষতস্থান দ্বারা গড়িয়ে রক্ত পড়তে পারে এবং যন্ত্রনা হতে পারে।
৩) রোগী পানি দেখলে প্রচুর ভয় পাবে এবং পানির কাছে যেতে চাইবে না।
৪) সাধারনের থেকে খাওয়া দাওয়া কমে যাবে এবং খেতে চাইবে না।
৫) কোন কিছু খেতে গেলে গলাতে ব্যথা অনুভব করবে এবং কথা বলতে সমস্যা হবে।
৬) রোগী তেমন কারও সাথে কথা বলতে চাইবে না এবং পাগলের মত আচরন করবে।
৭) মানুষের সাথে মিশতে চাইবে না, বেশির ভাগ সময় শুয়ে থাকতে চাইবে।
৮) অসুস্থতার কারণে রোগী তার স্বাভাবিক জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেতে পারে।

কুকুর কামড় দিলে করনীয়ঃ

১) প্রথম অবস্থাতে আক্রান্ত ব্যক্তির ভয়-ভীতি দূর করার সাহস দিতে হবে।
২) কুকুর যাতে অনেক গুলো কামড় দিতে না পারে সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩) কামড় দেয়ার সাথে সাথে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রচুর বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুতে হবে এবং শুকনো কাপড় বা রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যাতে ইনফিকশন বা ঘাঁ না হতে পরে।
৪) ক্ষত স্থানে কুকুরের ভাঙ্গা দাঁত বা ময়লা, আর্বজনা আছে কি’না তা পরীক্ষা করতে হবে।
৫) ক্ষতস্থান কোনভাবে কাটা বা ছেঁড়া যাবে না। কাটা ছেঁড়া করলে ইনফিকশন হতে পারে এবং সেই সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোন মাছি বা পোকা-মাকড় ক্ষত স্থানে বসতে না পারে।
৬) ক্ষতস্থানে বরফ এবং কোন প্রকার মলম বা পাউডার ব্যবহার কার যাবে না। তবে হালকা গরম পানি দিয়ে ধোয়া যেতে পারে।
৭) কুকুর বা যে কোন পশুর শরীরের র‌্যাবিস ভাইরাস বা জীবাণু থাকতে পারে। তাই যে কোন পশুর কামড় বা আচঁড়ে আক্রান্ত স্থান শুকিয়ে গেলেও এর ভাইরাস মানুষের শরীরে থাকতে পারে।
৮) র‌্যাবিস রোগটির লক্ষণ দেখার পূর্বেই টিকা বা ভ্যাকসিন নিলে আর রোগটি হবে না, তবে একবার ভাইরাস ছঁড়িয়ে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু।
৯) কুকুর-বিড়াল কামড়ালে যদি প্রাণীর শরীরে র‌্যবিস ভাইরাস জীবাণু না থাকে তারপরেও টিকা বা ভ্যাকসিন নিতে হবে।
১০) বাংলাদেশে র‌্যাবিস ভাইরাসের টিকা বা ভ্যাকসিন সব জায়গাতে পাওয়া যায় তাই কুকুর বা বিড়ালে কামড় বা আঁচড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে টিকা বা ভ্যাকসিন নিতে হবে।
১১) র‌্যাবিসের ভাইরাস বা জীবানু শরীরে প্রবেশ করার পর থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত নিস্ক্রিয় থাকে। ফলে ১৪ দিনের মধ্যে প্রথম টিকা বা ভ্যাকসিন নিতে হবে।
১৫) বাংরাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা সরকারী হাসপাতালে র‌্যবিস ভাইরাসের টিকা বা ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। এজন্যে বেসরকারী হাসপাতালে না যাওয়াই উত্তম কারন র‌্যাবিস ভাইরাসের টিকা বা ভ্যাকসিনের মূল্যেটি একটু বেশী।

পরামর্শঃ র‌্যাবিস ভাইরাসের টিকা বা ভ্যাকসিন ৫টার বেশি বা ৫টার কম নিবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here