গাজর খেলে কি হয়, গাজরের উপকারিতা

0
512
গাজরের উপকারিতা

সবজির মধ্যে গাজর হলো দ্বিতীয়। আর এর গাজরের উপকারিতা আনেক । গাজরের ইংরেজি নাম “ক্যারট” যা গ্রীক শব্দ থেকে উঠে এসেছে। গাজর পাঁচ ধরনের হয়ে থাকে যা সাদা, কমলা, বেগুনী, হলুদ ও লাল। তবে সাধারনত লাল গাজর বাংলাদেশের সব জেলাতে প্রচলিত। গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমানে বিটা ক্যারোটিন নামক উপাদান। গাজর কাঁচা সালাদ হিসাবে, রান্না করে এবং হালুয়া তৈরী করে খাওয়া হয়। নিম্নে গাজরের উপকারীতা সমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

গাজরের উপকারিতা

১। শীতের সময় শরীরে পটাশিয়ামের অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং পায়ের গোড়ালী ফাঁটা সমস্যা দেখা দেয়। শীতকালে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি কাঁচা গাজর খেলে শরীরে পটাশিয়ামের অভাব পূরন হয় ফলে ত্বক শুষ্ক ও পায়ের গোড়ালী ফাঁটা দূর হয়।

২। ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে মাথায় চুল পড়া সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া অনেকের মাথায় খুঁসকি দেখা দেয়। নিয়মিত গাজর খেলে এবং গাজর বেটে মাথায় দিলে চুল পড়া রোধ সহ খুঁসকি দূর হয়। এছাড়াও গাজর মাথায় দিলে চুল শক্ত ও ঘন হয়।

৩। শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি হলে বয়সের ছাপ পরে ও চামড়াতে ভাজ পরতে দেখা যায়। যারা নিয়মিত গাজর খায় তাদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি পূরণ হয় বলে বয়সের ছাপ সহজে পড়ে না এবং চামড়ার ভাজ পরা থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

৪। গাজরের উপকারিতা সুগার ও চর্বির পরিমান খুবই কম। তাই যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা প্রতিদিন হাটা হাটি করার পরে গাজর খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে। তাছাড়া গাজর খেলে পেটের অতিরিক্ত মেদ কমে যায়। শরীরে পানি ও পুষ্টির চাহিদা পুরুন হয়।

৫। অনেকে দাঁতের ব্যথায় ভুগে থাকেন ও দাঁতে ক্ষয়রোগ সৃষ্টি হয়। এটা মুলত খাবার খাওয়ার পরে নিয়মিত ব্রাশ না করার কারনে হয়ে থাকে। গাজর পানিতে সিদ্ধ করে মাউথ ওয়াশের ন্যায় প্রতিদিন রাতে কুলি করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। দাঁতের ক্ষয়রোগ সৃষ্টি স্নায়ুতে গাজর ব্যথা কমাতে সহযোগীতা করে।

৬। গাজরে যথেষ্ট পরিমান ফাইবার ও আঁশ আছে। আর আমরা সবাই জানি যে ফাইবার ও আঁশ কোষ্ঠকাঠিণ্যতা দূর করতে ভূমিকা রাখে। যারা কোষ্ঠকাঠিণ্যতায় ভূগে থাকেন তারা প্রতিদিন একটি করে গাজর খেলে কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর এবং পেট পরিষ্কার রাখে।

৭। আমরা সারাদিনে যা কাজ কর্ম করে থাকি তাতে প্রচুর ক্যালোরী খরচ হয়। আর ক্যালোরী খরচ হলে শরীরে ক্লান্তি ভাব আসে। চটজলদি একটি গাজর খেলে শরীরে ক্যালোরীর জোগান হয় ফলে শরীরে ক্লান্তি ভাব থাকে না এবং মন প্রফুল্ল থাকে।

পরিশেষে, সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সবই মানব জাতীর কল্যানের জন্য। তার মধ্যে খাদ্য একটি অপরীহার্য্য। সুস্থ্য থাকার জন্য হাজারো রকমের মেডিসিন সেবনের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রাকৃতিক খাবার নিয়মিত খেলে সুস্থ্য থাকা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here