ঘুম না হলে করনীয়, পরিমান মত ঘুমানোর উপায় কি?

0
456
ঘুম

ঘুম ফ্রেশ ভাবে হলে সারাটা দিন ভালো যায়। কিন্ত ঘুম ভালো না হলে দিনটা কেটে যায় মাতাল অবস্থায়। অবশ্য ঘুম না হওয়ার জন্য আমরা নিজেরাই দ্বায়ী, ঘুম কম হলে শরীরে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হার্বাড ইউনিভার্সিটিতে গবেষনার মাধ্যমে জানা গেছে একজন প্রাপ্ত মানুষের জন্য ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিৎ তা না হলে মস্তিষ্কে রক্ত চাপ বেড়ে যেতে পারে আর এ থেকে হতে পারে বড় ধরনের কোন সমস্যা। নিম্নে ঘুম না আসার কারন ও ঘুমানোর ‍উপায় সমূহ আলোচনা করা হলো-

ঘুম না হওয়ার কারন

একটা সময় ছিলো বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ রাত ৮টার মধ্যে ঘুমিয়ে যেত কিন্তু সেই দিন শেষ। বর্তমানে প্রতিটা মানুষের ঘুমাতে সময় লেগে যায় রাত ২টা থেকে ৩টা, এর কারন ব্যস্ততা। রাতে ঘুমানোর পূর্বে আমরা সবাই টেলিভিশন দেখে থাকি যা আমাদের চোখের রসকে শুকিয়ে ফেলে। অনেকে স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে সারা রাত পার করে দেয়, কেউবা আবার কম্পিউটারে কাজ করে। কিন্তু যত কিছুই হোক না কেন আপনার ঘুমানো কিন্তু হচ্ছে না।

একটা বিষয় লক্ষ্য করুন, প্রায় ৭৮% মানুষ ঘুমানোর পূর্বে চা, কফি এবং ধুমপান করে থাকে। যা আমাদের দেহে ঘুমের অভাব টা পূরণ করে ফেলে যে কারনে ঘুম হয় না। আবার অনেকে নানা রকম চিন্তার মধ্যে দিয়ে দিন পার করে যা রাতে ঘুমাতে বাধা গ্রস্থ করে। অতিরিক্ত গুরুপাক খাবার গুলো আমাদের দেহে একটা জীবনীশক্তি চালনা করে যা থেকে উৎপন্ন হয় সেক্স। আর এই সেক্সের কারনে হাজার হাজার তরুন-তরুনী সারা রাত জেগে সোশাল মিডিয়াতে পার্সোনাল চ্যাট, পর্নমুভি দেখে থাকে যা ঘুমের ব্যঘাৎ ঘঠিয়ে থাকে।

পরিমান মত ঘুমানোর উপায়

নিয়মিত ঘুমানোর জন্য প্রথমেই বলতে হয় নিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস করা কারন একটা কথা আছে যে ”মানুষ অভ্যাসের দাস” কথাটা ১০০% সত্য। আপনি সবকিছু নিয়ম মত অভ্যাস করুন দেখবেন আপনার সব কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। নিয়মিত ফ্রেশ ঘুমানোর পূর্বে আপনি নিজে মন স্তির করে নিন। সর্বদা চেষ্টা করুন রাত ১১ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যাবেন এবং ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠার। সকালের আবহাওয়া টা আমাদের সকলের প্রয়োজন আছে। সকালে যে প্রার্থনা গুলো আছে সে গুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন। সন্ধা ৬ টা থেকে ৭ টার মধ্যে কোন প্রকার চা, কফি এবং সিগারেট খাবেন না। যদি পারেন এই গুলো সম্পূর্ন রুপে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন। রাতে পেট পুড়ে খাবার খাবেন না, তাছাড়া গুরুপাক খাবার গুলো থেকে দূরে থাকুন। রাতে কোন উত্তেজনা মূলক মুভি দেখা থেকে বিরত থাকুন। যেটি আপনার ঘুমানোর ঘর সেটি ঘুমানোর পূর্বে সকল লাইট বা আলো বন্ধ করে অন্ধকার পরিবেশে ঘুমান। আপনার ঘুমানোর বিছানাটি যেন আরাম দায়ক হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন এবং উপর হয়ে কখনোই ঘুমাবেন না।

একটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আপনি ঘুমানোর পূর্বে আপনার স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন সহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক্স বন্ধ রাখুন।

ঘুম প্রতিটা মানুষের প্রয়োজন। আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখন আপনার শরীরের প্রতিটা অঙ্গ-প্রতঙ্গ কাজ করে এমন কি আপনার মস্তিষ্কের নিউরন ও শরীরের রক্ত এবং হরমোন গুলো তাদের কার্যকলাপ সমূহ সম্পন্ন করে থাকে। ঘুম থেকে হুড়মুড় করে উঠবেন না এতে ষ্ট্রোক হতে পারে। সর্বদা চেষ্টা করুন ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করা এতে আপনার শরীর স্বাভাবিক ভাবে ফিট থাকবে।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here