ঘৃতকুমারীর উপকারীতা, ঘৃতকুমারী কি কাজে ব্যবহৃত হয়?

0
780
ঘৃতকুমারীর উপকারীতা

ঘৃতকুমারী যা সারা বিশ্বে “অ্যালোভেরা” নামে পরিচিত। ঘৃতকুমারী একটি ঔষধি গুনাগুণ সম্পন্ন কান্ডবিহীন রসালো শ্বাসযুক্ত হয়ে থাকে। ঘৃতকুমারীর পাতা ১০ থেকে ২০ সেঃমিঃ পর্যন্ত হয় এবং পাতার দুই পাশে কাঁটা যুক্ত। পাতার মধ্য থেকে যে পদার্থ আমরা পেয়ে থাকি তাকে জেলি বলা হয়। এই জেলি অত্যান্ত উপকারী কারন জেলি রুপচর্চা থেকে শুরু করে জুস বানিয়ে খাওয়া পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঘৃতকুমারীতে কি কি উপাদান পাওয়া যায়

ঘৃতকুমারীতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক সহ ফলিকঅ্যাসিড পাওয়া যায়। এছাড়াও আরও পাওয়া যায় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন এ, বি৬, বি২।

ঘৃতকুমারী কি ভাবে ত্বকে ব্যবহার করবেন?

অনেকের মুখমন্ডল সহ সমস্থ শরীরে কালো দাগ দেখা দেয়। শরীরের চামড়া রোদে পুরে ও ধুলোবালি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে কালো ও জড়িয়ে যায়। সেই সব ক্ষেত্রে ঘৃতকুমারীর জেলি দারুন উপকারী। প্রথমে ঘৃতকুমারীর পাতা থেকে জেলি বের করে নিন। এরপরে ভালো করে হাত দিয়ে গলিয়ে তরল করে নিয়ে শসার রস ও মধু মিশিয়ে মুখ সহ সমস্থ শরীরে ভালো করে মাখুন। ৩০ মিনিট পরে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এক সপ্তাহের মধ্য আপনার ত্বকের উজ্জলতা বুঝতে পারবেন।

ঘৃতকুমারী খাওয়ার উপকারীতা সমূহ

১। ঘৃতকুমারীর জেলি দাঁতের রক্ত-পুঁজ পরা সহ মাড়ির ক্ষয় রোধ করে থাকে। সকালে ব্রাশ করার আগে বা পরে জেলি গলিয়ে দাঁতে ভালো করে ঘষতে হবে।

২। ঘৃতকুমারীর জেলি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন করে এবং পেটের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করে। তাছাড়া ঘৃতকুমারীর জেলি জুস করে খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

৩। ঘৃতকুমারীর জেলে ভিটামিন সি রয়েছে যা মুখ ও গলার ব্যাকটেরিয়া দূর করে। অনেকের মুখে ও শ্বাস-প্রশ্বাসে দূর্গন্ধ হয়। তারা এই জেলি জুস করে নিয়মিত খেলে মুখ ও শ্বাসের দূর্গন্ধ দূর হবে।

৪। আমরা তখনই সুস্থ্য থাকি যখন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিদ্যমান থাকে। ঘৃতকুমারীর জেলে অ্যান্টি ম্যাইকোবিয়াল এবং অ্যান্টি ফাঙ্গাল নামক দুইটি উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৫। প্রাকৃতিক ভাবে আমাদের শরীরে বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ হয়ে থাকে। বিশেষ করে শীত ও বর্ষা কালে চর্মরোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দেয়। তাই নিয়মিত ঘৃতকুমারীর জুস খেলে এবং আক্রান্ত স্থানে জেলি লাগালে চর্মরোগ দূর হয়।

৬। ঘৃতকুমারীর জেলে কোষ্ঠকাঠিণ্যতা দূর হয়। এতে যতেষ্ট পরিমান আঁশ ও ফাইবার রয়েছে যা পায়খানা নরম করতে সাহায্য করে। পেটের বায়ু ও অতিরিক্ত গ্যাস দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। হজম শক্তি বৃদ্ধি সহ পেট ঠান্ডা ও পরিষ্কার রাখে।

পরিশেষে, মনে রাখবেন ঘৃতকুমারী মাথা ব্যথা দূর করতে ম্যাজিকের ন্যায় কাজ করে। মাথা ব্যথা হলে পাতা থেকে জেলি ছাড়িয়ে কপালে ভালো করে ঘষে লাগালে তীব্র মাথা ব্যথাও দূর হয়। ঘৃতকুমারীর জেলি ভেষজ মেডিসিন উৎপাদন করতে ২০% পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। আসুন কেমিক্যাল মুক্ত খাবার খেয়ে নিজে সুস্থ্য থাকি এবং অপরকে সুস্থ্য থাকতে উৎসাহিত করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here