ডাইক্লোফেনাক কি? ডাইক্লোফেনাক সেবন করার নিয়ম

0
411
ডাইক্লোফেনাক কি

ডাইক্লোফেনাক একটি ব্যথা নাশক মেডিসিন। ডাইক্লোফেনাক মূলত মুখে খাবার এবং নন-স্টেরয়েডাল এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি মেডিসিন হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা শরীরের যে কোন ব্যথা দূর করতে সক্ষম। যেমন আঘাৎ প্রাপ্ত ব্যথা, হাটুর গিটে ব্যথা, বাঁত ব্যথা, মাংস পেশি ব্যথা, দাঁত ব্যথা, হাড় ব্যথা সহ অস্টিওআর্থারাইটিস, অ্যানিলাইজিং ব্যথাতে ব্যবহৃত হয়। ডাইক্লোফেনাক এমন একটি মেডিসিন যা অনেক মেয়েদের মাসিকের ব্যথা নাশক হিসাবে পরিচিত।

ডাইক্লোফেনাক কি ভাবে বাজারজাত করা হয়?

প্রতি পাতায় ১০ টি ট্যাবলেট পাওয়া যায়। যা বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস বিভিন্ন ভাবে মোড়কজাত করে। ট্যাবলেটটি বেশির ভাগ সাদা ও ছোট আকারে হয়ে থাকে।

ডাইক্লোফেনাক সেবন ‍বিধি নিয়ম

ডাইক্লোফেনাক প্রতি ১১ বা ১২ ঘন্টা পর পর সেবন করা উচিৎ। আপনার ব্যথা যতক্ষন পর্যন্ত পুরোপুরি সেরে না উঠবে ততক্ষন পর্যন্ত আপনি মেডিসিন সেবন চালিয়ে যাবেন। তবে অবশ্যয় একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মেডিসিন সেবন করতে হবে।

ডাইক্লোফেনাক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডাইক্লোফেনাক নামটি যত সাধারন কিন্তু এর কাজ সাধারন নয়। ডাইক্লোফেনাক মেডিসিন নানা রকম ক্ষতি করে আমাদের শরীরে। যেমন, কোষ্ঠকাঠিন্যতা শুরু করে, পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভূত হবে, বমি বমি ভাব সৃষ্টি হতে পারে, মাথা ঘুরতে পারে, চামড়ার ফুসকুঁড়ি সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডাইক্লোফেনাকের সবচেয়ে মারাত্বক ক্ষতি হলো, দীর্ঘদিন ডাইক্লোফেনাক সেবনের ফলে কিডনি ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।

ডাইক্লোফেনাক কখন সেবন করা যাবে না

গর্ভ ধারনের ৩০ সপ্তাহ পরে থেকে ডাইক্লোফেনাক মেডিসিন টি সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়াও অ্যালকোহল সেবন করলে ডাইক্লোফেনাক সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একাধারে ৩ মাসের বেশি ধরে ডাইক্লোফেনাক সেবন করলে শরীরে নানা রকম উপসর্গ দেখা দিলে মেডিসিনটি সেবন করা বন্ধ করতে হবে।

ডাইক্লোফেনাক কি এটি কখন সেবন করবেন

১) কোথাও কেটে গেলে যদি প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে তাহলে ডাইক্লোফেনাক সেবন করা উচিৎ।

২) তীব্র মাথা ব্যথা এবং মাইগ্রেনের ব্যথা থাকে তাহলে ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যেতে পারে।

৩) কোমড় ব্যথা, হাটু ব্যথা সহ মাংস পেশির অস্বাভাবিক ব্যথা হলে ডাইক্লোফেণাক সেবন করা যেতে পারে।

৪) অপ্রারেশন সহ বিভিন্ন অস্ত্রপাচারে যদি শরীরে ব্যথা হয় তাহলে ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যেতে পারে।

৫) কোথাও আঘাৎ প্রাপ্ত ব্যথা হলে বা ভেঙ্গে গেলে ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যেতে পারে।

৬) মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের সাথে ব্যথা অনুভূত হলে ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যেতে পারে।

৭) চামড়ার ক্ষত বা চর্মরোগের ফলে ব্যথা অনুভূত হলে অবশ্যয় ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যেতে পারে।

সর্বশেষে, ডাইক্লোফেনাক সেবনের পূর্বে অবশ্যয় অবশ্যয় একজন চিকিৎসাকের নিদের্শনা অনুযায়ী সেবন করা উচিৎ। এই মেডিসিন সেবনের সময় সকল প্রকার খাবার খাওয়া যাবে কোন সমস্যা হবে না। ডাইক্লোফেনাক এবং এসিক্লোফেনাক একই সাথে সেবন করা থেকে দূরে থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here