ডায়রিয়া থেকে মুক্তির উপায়

0
532
ডায়রিয়া থেকে মুক্তির উপায়

চব্বিশ ঘন্টায় তিন বা তার অধিক পাতলা তরল পানি যুক্ত যে পায়খানা হয় তাকে মুলত ডায়রিয়া বলে। ডায়রিয়া হলে পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা হতে থাকে, পেটে গুড়গুর শব্দ হওয়া, পায়খানা চাপ সৃষ্টি হওয়া সহ অতিরিক্ত ঘাম হয়ে থাকে। প্রায় প্রতিটা মানুষ কোন না কোন সময় ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমানে পানি ও লবণ বেড়িয়ে যায় এবং পানি স্বল্পতা দেখা দেয় শরীরে। আর এই লবণ পানি বেড়িয়ে যাওয়ার কারনে অধিকাংশ শিশু মারা যায়। ডায়রিয়া একটি সাধারন বিষয় তাই তেমন কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না কিন্তু একবার ডায়রিয়াতে ভালো ভাবে আক্রান্ত হলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব প্রায়।

ডায়রিয়া কেন হয়?

ডায়রিয়া বিভিন্ন কারনে হতে পারে যেমন, দূষিত পানি, বাসি-পঁচা খাবার, বিভিন্ন রোগ জীবাণু, খাবারের সাথে ব্যকটেরিয়া, অতিরিক্ত ঝাল সহ গুরুপাক খাবার, খাবারে মাছি বসা, খাবারের সাথে চুল খেয়ে ফেলা সহ নানা রকম ত্রুটির কারনে ডায়রিয়া হয়ে থাকে।

ডায়রিয়ার লক্ষণ

১) পেটে বা তলপেটে প্রচুর ব্যথা অনুভূত হওয়া।
২) মলের সাথে তরল পানি বেড়িয়ে যাওয়া।
৩) পেটে গুড়গুর শব্দ হওয়া ও পেট শুকিয়ে যাওয়া।
৪) শরীর অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে যাওয়া।
৫) বমি বমি ভাব হওয়া ও বমি হওয়া।
৬) বদহজম সহ টক ঢেকুর ওঠা।
৭) গায়ে জ্বর হওয়া সহ গা ব্যথা।

ডায়রিয়া হলে করণীয়

ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর লবণ সহ পানি বেড়িয়ে যায় ফলে শরীর দূর্বল হয়ে পরে। তাই প্রতিবার পাতলা পায়খানা হওয়ার সাথে সাথে স্যালাইন পানি খেতে হবে। স্যালাইন পানি খাওয়ার পরে হয়তো পেটে আরও ব্যথা হওয়া। তখন স্যালাইন পানি খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। স্যালাইন পানি মিশ্রিত করার উপকরণ ৫০০ মিলি ঠান্ডা পানির সাথে এক প্যাকেট ওরস্যালাইন সম্পূর্ণ টুকু মিশিয়ে খেতে হবে।

ডায়রিয়া প্রতিকারে পেয়ারা ও পাতা বেশ ভালো কাজ দেয়। তাই ডায়রিয়া হলে একটি পেয়ারা ভালো ভাবে চিবিয়ে খান এবং অতিরিক্ত বমি বমি ভাব সহ বমি হলে পেয়ারা পাতা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি ঠান্ডা করে খেলে বমি দূর হবে সেই সাথে ডায়রিয়া সেরে যাবে।

কঁচি ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান থাকায় তা ডায়রিয়াজনিত পানি শূন্যতা দূর করতে ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া ডাবের ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লৌহ আমাদের শরীরে ডায়রিয়ার ক্ষতি পূরণ করে।

পায়খানা হওয়ার সময় উচ্চ শব্দ হওয়া, পেটফাঁপা ও পেটের ভিতর শব্দ হওয়া সহ ডায়রিয়ার সকল সমস্যা দূর করতে লবঙ্গ ম্যাজিকের মত কাজ করে। লবঙ্গ একটু ভেজে বা চুর্ণ করে সকালে ও বিকালে দু’বেলা অল্প গরম পানিসহ খেলে ডায়রিয়া ভালো হয়ে যাবে।

ডমপিরিডন মেডিসিনটি পেটের অসুখে সেবন করা হয়ে থাকে। পেটে বদ হজম হলে ডমপিরিডন মেডিসিনটি সেবন করতে পারেন, এই মেডিসিনটি আপনার পেটের বদহজম সহ পেটের ব্যথা দূর করতে সক্ষম। এছাড়া ডায়রিয়া থেকে মুক্তি পেতে ইমোট্রিল ক্যাপসুলটি বহুল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ডায়রিয়া দূর করতে ইমোট্রিল ক্যাপসুলটি বেশ ভালো কাজ দেয় তবে অতিরিক্ত সেবন করা যাবে না। অবশ্যয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়রিয়ার মেডিসিন সেবন করবেন।

শিশুর ডায়রিয়া হলে করনীয়

গরমে শিশুর ডায়রিয়া হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় শিশুর জন্য। গরমে ডায়রিয়া হলে প্রচুর ঘাম হয় আর এই কারণে শিশুর বেশি বেশি পানি পিপাসা লাগে। তাই সবসময় বিশুদ্ধ পানি ভালভাবে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করতে দিতে হবে। শিশুর প্রতিবার পায়খানা হওয়ার পরে ১০ থেকে ১৫ চা চামচ খাবার স্যালাইন আপনার শিশুকে খাওয়াতে হবে। অবশ্যই মনে রাখবেন স্যালাইন অল্প অল্প করে বেশি সময় নিয়ে খাওয়াতে হবে।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে এবং এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার ও পোষ্টের নিচে আপনার মতামত দিয়ে সাথেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here