তুলসী পাতার গুনাগুন, তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারীতা কি?

0
780
তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারীতা কি?

তুলসী আমাদের অতি পরিচিত একটি ঔষধি গাছ। যা বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। তুলসী গাছ সাধারনত স্যাতস্যাতে পরিবেশে বেশি হয়ে থাকে। এর ঘ্রাণ একটু কটু ধরনের যা অনেকেই অপছন্দ করে থাকে। কিন্তু এই তুলসীর গুনাগুণ হাজারো রকমের। তুলসী সাধারনত সর্দি কাশিতে ব্যবহার হয়ে থাকে, এছাড়াও তুলসী নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।

তুলসীর গুনাগুণ বা উপকারীতা

জ্বরঃ

তুলসী পাতা জীবানু নাশক, ব্যাকটেরিয়া নাশক ও জ্বর নাশক। এক লিটার পানিতে তুলসী পাতা ও এলাচ এক সাথে মিশিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। এর পর সিদ্ধ পানি টিউবয়েলের ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে ভালো ভাবে গোসল করুন। দুই দিনে জ্বর ভালো হয়ে যাবে।

ক্যান্সারঃ

তুলসী পাতা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। তুলসী পাতার রস নিয়মিত সকালে খালি পেটে সেবন করলে টিউমার ও ক্যান্সার নিয়ন্ত্রন ও কমে যাবে।

ডায়াবেটিসঃ

তুলসীপাতাতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এসেনশিয়াল থাকে। আর এই উপাদান গুলো সব সময় ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

সর্দি ও কাশিঃ

শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার সর্দি কাশি হয়ে থাকে। তাই সর্দি কাশি হলে তুলসী পাতার রস অল্প গরম করে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যাবে।

কামড়ঃ

কোন প্রাণী শরীরের কোথাও কামড় দিলে সাথে সাথে তুলসী পাতা মিহি করে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিন। এতে ক্ষতিকারক জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া ও বিষ ধ্বংস হয়ে যাবে।

উচ্চ রক্তচাপঃ

যাদের হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য তুলসী পাতার রস অনেক উপকারী। নিয়মিত তুলসী পাতা চায়ের মত করে খেলে হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

রক্ত পরিষ্কারকঃ

অনেকের রক্ত কালো হয়ে থাকে এবং রক্তে রোগ জীবাণু থাকে। নিয়মিত তুলসী পাতার রস শরবত করে খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রসাবে জ্বালাপোড়াঃ

তুলসী পাতার বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে পিচ্ছিল ধরনের হয়ে থাকে। সেই পিচ্ছিল পানিতে মধু মিশিয়ে সেবন করলে প্রসাবে জ্বালাপোড়া দূর হবে।

ঘ্রাণের দূর্গন্ধঃ

অনেকের ঘ্রাণে দূর্গন্ধ হয়ে থাকে, তাই তাদের উচিৎ নিয়মিত তুলসীপাতার রস সেবন করা। এতে মুখের ও ঘ্রাণের দূর্গন্ধ দূর হবে।

মাথা ব্যথাঃ

মাথা ব্যথাতে ভুগে থাকেন না এমন কোন নারী বা পুরুষ নেই। মাথা ব্যথা শুরু হলে তুলসী পাতার রস ও সরিষার তেল মিশেয়ে কপালে ও মাথার তালুতে মালিশ করলে ৫ মিনিটে মাথা ব্যথা সেরে যাবে।

চর্মরোগঃ

শরীরে চর্ম রোগ হলে তুলসী পাতা ও দূর্বা ঘাস বেটে মিহি করে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘন্টা, এরপরে গোসল করে ফেলুন। চর্মরোগ সেরে উঠবে। উল্লেখ্য, তুলসী পাতা দাদের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিণ্যঃ

অনেক মানুষ কোষ্ঠকাঠিণ্যতায় ভুগে থাকেন। সকালে খালি পেটে তুলসী পাতার রস ও ইসুব গুলের ভুষি মিশিয়ে সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিণ্যতা দূর হবে।

পরিশেষে, উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও তুলসীপাতা বা তুলসী গাছের গুনাগুণ অপরীসীম। সুস্থ্য জীবন জাপন করতে তুলসী পাতা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। পৃথিবীতে যত গাছ পালা সৃষ্টি হয়েছে সবকিছুেই মানব জাতীর কল্যানে ব্যবহার হয়ে থাকে।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে এবং এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার ও পোষ্টের নিচে আপনার মতামত দিয়ে সাথেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here