থানকুনি পাতার উপকারিতা

0
535
তানকুনি পাতা

ভেষজ গুণ শক্তি থানকুনি পাতা ব্যবহার প্রাচীন যুগ থেকেই প্রচলিত। আপনি তো জানেন, আমাদের প্রাচীন মানুষগুলোর রোগ বালাই কম ছিল বললেই চলে। এই সামান্য থানকুনি পাতা আপনার হাজারও রোগ বলাই দূর করতে সক্ষম। এই সব ভেষজ লতা পাতাকে কখনোই ঘৃণা করবেন না। এমনও হতে পারে এই সব ভেজষই আপনার কোন রোগের মহাঔষধ। নিম্নে এই থানকুনি পাতার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

থানকুনির জন্ম স্থানঃ

এই সামান্য গাছ বা পাতা আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। থানকুনি পাতা দেশের সব জায়গাতে পাওয়া যায়। গ্রম বলেন বা শহর বলেন সবখানে এর প্রচলন। খাদ্য হিসাবে থানকুনি সরাসরি রোগ নিরাময়ে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে। এই উদ্ভিদটি যে কোন পরিবেশে কোনো প্রকার যত্ন ছাড়াই জন্মে থাকে যা স্যাঁতস্যাঁতে মাটির ওপর ছোট গোলাকার পাতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। তবে গ্রামের পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ের পাশে থানকুনির বেশি পাওয়া যায়। শহরের মধ্যে ঢাকা করওয়ান বাজারে থানকুনি বহুল বিক্রিত হয়ে থাকে।

থানকুনি পাতার কার্যকারীতাঃ

ক। বাংলাদেশের সব জেলাতে অনেক মানুষ থানকুনি পাতার ভর্তা ও ভাজি খেয়ে থাকে। অনেকে আবার কাঁচা পাতা সালাদের সাথে মিশিয়ে খেয়ে থাকে। থানকুনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ, বিশেষ করে আয়রন ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

খ। প্রাচীন যুগ থেকে মানুষ পেটের যে কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে। থানকুনির পাতা বেটে ভর্তা করে বা জুস করে খেলে পেটের বদহজম, ডায়রিয়া, নতুন আমাশয় ও পুরাতন জটিল আমাশয় সহ যে কোন পেটব্যথা দূর হয়।

গ। আপনার পেটে আলসার হলে এই থানকুনির পাতা ৭ থেকে ১৫ দিন জুস বা রস করে খেলে পুরোপুরি দূর হবে। থানকুনি চুল, হাত-পায়ের নখ, শরীরের ত্বক, চোখ পরিষ্কার হবে। এছাড়াও যুবক বা বৃদ্ধদের হাঁপানি-শ্বসকষ্ট, দাদ, চুলকানি সহ যে কোন চর্মরোগ থেকে মুক্তি পেতে থানকুনির পাতা খুবই কার্যকরী।

ঘ। বাচ্চাদের ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, আমাশয় দূর করতে ম্যাজিকের মত কাজ করে। অনেক বৃদ্ধদের বাঁতের ব্যথা থাকে তারা নিয়মিত থানকুনির পাতার ভর্তা, ভাজি এবং ঠান্ডা পানির সাথে রস করে সেবন করতে পারেন। ১ মাস নিয়মিত সেবন করলে যুবকের মত যৌবন ফিরে পেতে পরিক্ষীত।

ঙ। শরীরের অভ্যন্তরীণ স্নায়ুতন্ত্রকে কার্যকর ও সক্রিয় রাখতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।শরীরের কোথাও কেটে বা ছিঁড়ে গেলে ও মতিষ্কের রক্ত স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে এবং রূপচর্চার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সহ হাড়কে পূর্ণগঠন করতে সাহায্য করে।

পরিশেষে, থানকুনি একটি ঔষধিগুন সম্পন্ন একটি মহা শক্তিশালী মারাত্বক উদ্ভিদ। কিন্তু আমরা এই উদ্ভিদটিকে খুবই সাধারন ভাবে চিন্তা করে থাকি। একটা বিষয় চিন্তা করুন পৃথিবীতে যত প্রকার মেডিসিন তৈরী হয়েছে এবং হচ্ছে সবগুলোই থানকুনির মত উদ্ভিদ দ্বারা সৃষ্টি।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here