পলিপাসের চিকিৎসা, নাকের পলিপাস দূর করার উপায়

0
964

পলিপাস একটি নাসারন্ধ্রের রোগ। এ রোগে সাধারণত সর্দি লেগে থাকে ও প্রচুর হাঁচি হয়। নিঃশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়, নাক ডাকা বা ঘুমের সময় প্রচন্ড সাউন্ড হয়। নাকে পলিপাস বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন, ঠান্ডা জনিত কারনে, বংশগত কারনে, নাকের স্নায়ুতে মাংস বৃদ্ধি সহ নানা রকম কারন রয়েছে। পলিপাস রোগের কারণ ও চিকিৎসা উল্লেখ করা হলো।

পলিপাস কি?

মানবদেহের রক্তের ইসনোফিল ও সিরাম আইজিই এর পরিমাণ বেড়ে গেলে ঠান্ডা, সর্দি, হাঁচি লেগে থাকে এবং নাকের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে যা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিগুলোতে অ্যালার্জি প্রদাহ সৃষ্টি করে। ঝিল্লি থেকে ধীরে ধীরে এক ধরনের মাংসপিন্ড বাড়তে থাকে। প্রথমে এটা মটরশুটির মতো দেখতে হয়। পরবর্তীতে বড় আকার ধারণ করে আঙ্গুরের মতো হয় এবং নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এটি এক বা দুই নাকেও হতে পারে। এ রোগ মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে। অনেক সময় পলিপাস থেকে রক্ত বের হতে দেখা যায়। কোন কোন সময় নরম, নীল বর্ণ, মসৃণ শ্বেতময় ও পুঁজময় ক্ষতও হয়ে যায়। তবে নাক বন্ধ থাকা মানেই পলিপাস নয় এবং নাক বন্ধ অবস্থায় এর মধ্যে ফুলে উঠা কিছু দেখলেই তা পলিপাস বলে গ্রহণ করা যায় না। এজন্য সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে পলিপাস হয়েছে কি না সেটা নিশ্চিত করে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিৎ।

পলিপাসের প্রকারভেদ

নাকের পলিপাস দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন, ১) ইথময়ডাল পলিপাস যা এলার্জির কারণে দুই নাকে দেখা দেয়। ২) এন্ট্রোকোয়ানাল পলিপাস যা ইনফেকশনের কারণে এক নাকে হতে দেখা যায়। এটা শিশু বা কিশোর বয়সে বেশি দেখা যায়।

পলিপাস হওয়ার কারণ

নাসারন্ধ্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি হতে পলিপাস সৃষ্টি হয়। নাসিকা প্রদাহ বৃদ্ধির কারণেও পলিপাস হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি জনিত অথবা দীর্ঘ মেয়াদী নাক ও সাইনাসের প্রদাহ বা ক্ষত পলিপাসের প্রধান কারন। ১ থেকে ৩য় শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে পলিপাসের সাথে হাঁপানিও জড়িত থাকে। দুই শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ঋতু পরিবর্তন জনিত অ্যালার্জি পলিপাসের জন্য দায়ী করা হয়। আবার অনেক সময় বংশগত কারনেও পলিপাস হয়ে থাকে। যেমন বাবা মায়ের পলিপাস রোগ হয়ে থাকলে সন্তানের পলিপাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি।

পলিপাসের লক্ষণ

পলিপাস রোগে নাসারন্ধ্রের অস্বাভাবিক কিছু কার্য পরিলক্ষিত হতে দেখা গেছে। একনাগাড়ে হাঁচি হওয়া, সর্দি লেগে থাকা, নাক দিয়ে টপ টপ করে পানি ঝরা, নাক বন্ধ হয়ে থাকা, নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মুখ হা করে নিঃশ্বাস নেওয়া, নাক চুলকানো, নাকে ব্যথা হওয়া, মাথাব্যথা করা, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, জ্বর জ্বর অনুভূতি, খাবারে অরুচি, ঘুমের সময় নাক ডাকা, শরীর শুকিয়ে যাওয়া ও কখনো নাকের মাংস বাইরে বের হয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়।

পলিপাসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

S.Nit, S.Cab, Thuga, Lemna, Natmur, Aurum met ইত্যাদি ঔষধগুলি চিকিৎসা অনুযায়ী সেবন করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে ওষুধ সেবন করলে কোন প্রকার অস্ত্রপচার বা অপারেশন ছাড়া নাকের পলিপাস ও সাইনোসাইটিস রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

পলিপাসের এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা

অপারেশন করলে সাধারণত নাকের পলিপাস ভাল হয়ে যায়। তবে এই পলিপাস অপারেশনের পরেও হতে পারে এবং কয়েকবার অপারেশন করার প্রয়োজন হতে পারে। এলার্জি থেকে দূরে থাকলে এই রোগ থেকে নিরাপদ থাকা যায়। বিনা অস্ত্রপচার বা অপারেশন ছাড়া পলিপাসের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব নয়। তবে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় মেডিসিনের মাধ্যমে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ রাখার ফলে পলিপাসের ফোলা ভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। এছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় স্টেরয়েড জাতীয় স্প্রে নাকে ব্যবহার করা হয় এতেও পলিপাসের আকার ছোট হয়ে আসতে পারে।

সতর্কতা

সব ধরনের অ্যালার্জিটিক খাদ্য পরিহার করুন, ঠান্ডা লাগা ও ধূলাবালি থেকে সাবধান দূরে থাকতে হবে। প্রথম অবস্থায় পলিপাসের চিকিৎসা না করালে পরবর্তী সময়ে সাইনাসের ইনফেকশন হয়ে সাইনোসাইটিস এবং এজমা দেখা দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here