নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে কেন?

0
453
নারীরা বেশি দিন বাঁচে কেন

সারা পৃথিবী জুড়ে পুরুষের চেয়ে নারীদের আয়ুকাল বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও এর ২০১৬ সালের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে সারা বিশ্বের মানুষের গড় আয়ুকাল ছিল ৭২ বছর পর্যন্ত। কিন্তু নারী ও পুরুষের আয়ুকাল ভিন্ন ভাবে তুলে ধরার পরে দেখা গেছে যে নারীদের গড় আয়ু ৭৪ বছর দুই মাস পর্যন্ত এবং অন্যদিকে পুরুষের গড় আয়ুকাল ৬৯ বছর আট মাস পর্যন্ত।

২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ হাজার ৩৬৪ জন ব্যক্তিকে পাওয়া যায় যাদের বয়স ১০০ বছরেরও বেশি হয়েছিল। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা মাত্র ৯,১৬২ জন। অন্যদিকে নারীর সংখ্যা ৪৪,২০২ জন। তাহলে নারীদের মধ্যে এমন কি আছে যার কারণে তারা পুরুষদের চাইতে বেশি সময় বেঁচে থাকে? এর কয়েকটি কারণ সনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

জিন গত কারন

মানুষের মৃত্যু হারের তালিকায় বর্তমানে ৪০টি দেশ রয়েছে যার মধ্যে সুইডেন ও ফ্রান্সের ১,৭৫১ এবং ১,৮১৬। কিন্তু জাপান ও রাশিয়ার মতো দেশ গুলোর তথ্য অনুযায়ী ২০ শতকের মধ্যেবর্তী সময় থেকে পাওয়া যায় যে প্রতি বছর সব দেশের নারীর গড় আয়ুকাল পুরুষের গড় আয়ুকে অতিক্রম করে অনেক উপরে উঠে গেছে। জেনেটিক গঠনের কারণেই নারীরা বেশি দিন বেঁচে ছিল।

ভ্রূণ ধারন

ইউনিভার্সিটি অব কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক “ডেভিড জেমস” বলেছেন যে নারী ভ্রূণের চেয়ে পুরুষ ভ্রূণ বেশি হারে মারা যায়। এর কারণ নির্ভর করে লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম গুলোর কার্যক্ষমতার ওপর। X হল নারী ক্রোমোজোম এবং Y হল পুরুষ ক্রোমোজোম। আর এই ক্রোমোজোম গুলো আমাদের জিন ধারণ করে থাকে। X ক্রোমোজোম গুলোতে প্রচুর জিন রয়েছে যা আপনাকে জীবিত থাকতে সহায়তা করে। যদি আপনার X ক্রোমোজোমে জেনেটিক সমস্যা থেকে থাকে তাহলে একজন নারীর ব্যাকআপ হিসেবে আরেকটা X ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু পুরুষের X ক্রোমোজোম একটাই থাকায় তাদের ব্যাকআপের কোন সুযোগ থাকে না।

এছাড়াও বেশি বয়সে গর্ভধারণের কারণে মেয়ে শিশুদের তুলনায় ছেলে শিশু মারা যাওয়ার হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি। সঠিক সময়ের আগেই জন্ম নেয়ার হার ছেলে শিশুদের দিকে ১৪ শতাংশ বেশি থাকে। ছেলে শিশুরা সাধারণত আকারে বড় হয়ে থাকে এবং জন্মের সময় বেশি আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

হরমোন

বয়ঃসন্ধিকালের সময় শরীরে হরমোন পরিবর্তনের কারণে ছেলে ও মেয়েরা পুরুষ ও নারীতে পরিণত হয়। টেস্টো স্টেরন এমন একটি হরমোন যেটা মূলত পুরুষের বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করে। যেমন দীর্ঘকার শরীর, শক্তিশালী পেশি, ভারী কণ্ঠস্বর এবং শরীরের কিছু স্থানে কালো লোম কেশ তৈরী হওয়া সহ নানা রকম কারন দেখা যায়।সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের শেষ সময়টার দিকে ছেলেদের শরীরে এই টেস্টো স্টেরন হরমোন নিঃসরণ হয়। এ সময় ছেলেদের মৃত্যুহার বেশি দেখা যায়।

পুরুষদের এই হরমোন বেশি থাকার কারণে তারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে উৎসাহী হয়। লড়াই করা, খুব দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেল বা গাড়ি ড্রাইভিং, রিলেশনশীপে জরানো এবং রিলেশনশীপ ভেঙে যাওয়ার পরে আত্মহত্যার চেষ্টা নারীদের থেকে পুরুষদের বেশি থাকে। এছাড়াও একাকী থাকতে পছন্দ করে এই হরমোন। এই হরমোনকে যখন কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তখন নানা রকম জেদ, নারীর প্রতি ঘৃণা সহ নেশার ফাঁদে পা বাড়াতেও দ্বায়ী এই হরমোন।

এদিকে নারীদের যৌন হরমোন এস্ট্রোজেনকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে দেখা হয়। এর মানে নারীদেহে এই হরমোন শরীরের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ দূর করে এবং শরীরের স্নায়ু কোষের ওপর চাপ কম রাখে। যে সকল নারীদের এস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব রয়েছে তাদের বেঁচে থাকার হার কম থাকে।

অভ্যাস এবং আচরণ

কিছু কিছু এলাকাতে প্রচুর মাদক ক্রয় ও বিক্রয় হয়। সেই সকল এলাকাতে পুরুষ মৃত্যু হার বেশি। এছাড়া যেসব এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা কমপ্লেক্স, হাসপাতাল, মেডিটেশন কেন্দ্র কম সেখানে পুরুষরা বেশি হারে মারা যায় এটা পরিলক্ষিত। ধূমপান, মদ্যপান সহ নানা রকম নেশা গ্রহন ও অতিরিক্ত ফুড পয়জনিক খাবার খাওয়ার ওপরও নির্ভর করে কে কত বছর বাঁচবে। যেমন রাশিয়ার পুরুষরা রাশিয়ার নারীদের চেয়ে ১৩ বছর আগে মারা যায় এটার কারণ রাশিয়ার পুরুষরা প্রচুর মদপান করে।

পরিবেশ সুস্বাস্থ্যময় কম

সাধারনত একটি নারী পুরুষের চেয়ে কম কাজ করে, ধুলোবালিতে কম প্রবেশ করে। এটা আমরা সবাই জানি যে ধুলোবালি আয়ুকাল কমিয়ে দেয়। পুরুষরা সর্বদা বাহিরে থাকেন ফলে ফুসফুসে প্রচুর ধুলোবালি সহ কার্বনডাইঅক্সাইড জমা হয়। এতে নারীদের থেকে পুরুষরা কম বছর বেঁচে থাকেন। আমরা আরও জানি যত বেশি কাজ করা যাবে শরীর তত বেশি সুস্থ্য থাকবে। হ্যা কথাটা সত্য তবে আপনি যত বেশি কাজ করবেন তত বেশি আপনার শরীরের ক্যালোরী ও হাড় ক্ষয় হবে। ফলে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়।

পরিশেষে, মৃত্যু সম্পূর্ণ মহান সৃষ্টিকর্তার হাতে এটা কারো অজানা নয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে অবশ্যই একটি পুরুষ সুস্থ্য ও অনেকদিস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here