পেঁপে খেলে কি হয়, যাদের পেঁপে খাওয়া নিষেধ

0
243
পেঁপে খেলে কি হয়

বিশ্বে হাজার হাজার জনপ্রিয় ফল আছে তাদের মধ্যে অন্যতম পেঁপে। পেঁপে ঋতুকালীন ফল হওয়া সত্বেও বারো মাসই পেঁপে পাওয়া যায়। কাঁচা পেঁপে যেমন রান্না করলে স্বাদ বোঝা যায় ঠিক তেমনি পাঁকা পেঁপে খেতেও স্বাদের কোন জুড়ি নেই। পেঁপে একটি ফাইবার যুক্ত ফল। পেঁপেতে বিদ্যমান আছে ভিটামিন এ, সি এবং নিয়াসিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, প্রোটিন।

পেঁপে খেলে কি হয়

পেঁপে খেলে হার্ট বা হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পেঁপের ভিটামিন এ, সি এবং ই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর উৎস। এই তিনটি উপাদান কোলেষ্ট্রেরল প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, যা হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

পাঁকা পেঁপেতে আঁশ থাকায় এটি একটি ফাইবার যুক্ত ফল। তাই পাঁকা পেঁপে কোষ্টপরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বদহজম সহ পেটের বায়ু বেড়িয়ে যেতে ভুমিকা রাখে। এ ছাড়াও পেঁপে অর্শ রোগের ক্ষেত্রেও বেশ উপকারি। নিয়মিত পেঁপে খেলে ক্ষুধা বর্ধক বা খাবারে রুচি বাড়বে।

পেঁপে আপনার চোখের জন্য ভাল কারন এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ, সি, ও ই শরীর খুব দ্রত সহনীয়। বর্তমানে দেখা যায় প্রতিদিন প্রোটিন ও পুষ্টিযুক্ত খাবার কম খাওয়া হয় যার ফলে বয়স বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথে চোখে কম দেখা শুরু হয়। তাই নিয়মিত পেঁপে খেলে চোখের অকাল ছানি পড়া, চোখে কম দেখা সহ রাতকানা রোগ দূর হয়।

পেঁপের আঠা শরীরের জন্য অত্যান্ত উপকারী যেমন পেঁপের আঠা কৃমিনাশক ও অর্শ প্রতিরোধক। যাদের পেটে কৃমি আছে তারা নিয়মিত সকালে ৭ থেকে ১০ ফোঁটা পেঁপের আঠা পানির সাথে মিশিয়ে খালি পেটে সেবন করলে কৃমি দূর হবে। এছাড়া অনেকে অর্শ রোগে ভুগে থাকেন তারা পেঁপের আঠা বাতাসার সাথে মিশিয়ে খেলে অর্শ দূর হয়।

রুপচর্চাতে পেঁপে বেশ কার্যকরী ফল দেয়। প্রতিদিন গোসলের ৩০ মিনিট পূর্বে পেঁপে ও মধু মিশিয়ে ত্বকে মাখলে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ত্বকের কালচে ভাব দূর হবে। অনেকের চুল পরে যায় তারা নানা রকম পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে চুল পড়া বন্ধ করতে। তাদের উচিৎ পেঁপের সাথে টক দই মিশিয়ে চুলের গোড়াতে মাখলে ৫ থেকে ৭ দিনে চুল পড়া দূর হবে।

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ফ্লেভানয়েড, লুটেইন, ক্রিপ্টোক্সান্থিন আছে। আর এই উপাদান গুলো স্কিন ক্যান্সার সহ সকল প্রকার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। উল্লেখ্য থাকে যে, পেঁপের এই উপাদান গুলো মুখের ব্রণ ও ফোঁড়া সহ বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

যাদের পেঁপে খাওয়া নিষেধ

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে পেঁপে খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ পেঁপেতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান নানা রকম ভাবে মিসক্যারেজের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে।

অ্যালার্জির কারণে যাদের প্রায়ই শ্বাস কষ্টতে ভূগতে হয় তারা ভুলেও পেঁপে খাবেন না। কারণ এতে উপস্থিত পয়াপিন নামক একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র শ্বাস কষ্টের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

আপনি কি অতিদ্রুত বাবা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে বেশি মাত্রায় পেঁপে খাওয়া বন্ধ করুন। কারন পেঁপের বেশ কিছু এনজাইম বীর্য কাউন্ট কমিয়ে দেয়। ফলে বীর্য তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়াটা যেমন ভাল নয় ঠিক তেমনি বেশি মাত্রায় সুগার কমে যাওয়াটাও ভালো নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে পেঁপে খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা নিমেষে কমিয়ে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here