শিশুর সর্দি কাশি দূর করার উপায়

5
349

শীত কালে এমন কিছু রোগ দেখা দেয় শিশুদের যা খুবই কষ্টদায়ক। এই সময়ে নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্ট এ দুটি রোগ শিশুদের জন্য বয়ে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। আসুন এ দুটি রোগ ও এর প্রতিকার সম্বন্ধে জেনে নিয়ে আগেই সতর্ক থাকি।

নিউমোনয়িার লক্ষণ

১। দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস, নবজাতকের ক্ষেত্রে ৬০ বার প্রতি মিনিটে।
২। ১ বছরের মধ্যের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৫০ বার প্রতি মিনিটে।
৩। ১ থেকে ৩ বছরের ক্ষেত্রে ৪০ বার প্রতি মিনিটে।
৪। নাকের ডগা ফুলে যাওয়া দেখা দিতে পারে শ্বাসের সঙ্গে।
৫। শরীরের তাপমাত্রার উর্ধগতি এমনকি ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইটে উঠতে পারে।
৬। শিশুর চেহারাতে একটি ক্লান্তি ও অসুস্থতার ভাব ছড়িয়ে থাকে।
৭। রাত্রিকালীন কাশির প্রকোপ বেশি হতে পারে এবং সকাল বা ভোরের দিকে।
৮। ছোট্ট শিশুদের ক্ষেত্রে কফ নাও বের হতে পারে।
৯। বুকে ঘড় ঘড় আওয়াজ পাওয়া যেতে পারে।
১০। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত স্ট্রেপটো কক্কাস, হিমোফিলাস ইনফুয়েঞ্জি ও স্টাফাইলো কক্কাস রোগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্তের চিহ্ন পাওয়া যায়।

প্রাথমিক টিপস বা করনীয়

ক) শিশুর যদি খুব শ্বাসকষ্ট থাকে তাহলে খুব দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই জরুরী। তিন মাসের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে অথবা শিশুর শরীর যদি বার বার নীল বর্ণ হয়ে আসে তাদের হাসপাতলে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।
খ) আপনি আপনার পারিবারিক শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গ) তবে যদি শ্বাসকষ্ট অতটা না থাকে তাহলে বাসায় চিকিৎসা করা যেতে পারে।

চিকিৎসা

১। শিশুর জ্বর কমাতে সিরাপ প্যারাসিটামল ব্যবহার করুন। ওজন অনুযায়ী ১৫ মিঃগ্রাঃ প্রতিবার সেবন করাতে হবে। দিনে ৪ বার উর্ধ্বে ৬ বার পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন। প্যারাসিটামল দেওয়ার আধ ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর ও হাত পা মাথা ভালো করে মুছে দিন।
২। প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে এ বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত এ্যামোক্সিসিলিন বা তৃতীয় জেনারেশন সেফিক্সিম ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন এ্যান্টিবায়োটিক অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
৩। নাকে নরমাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করুন। ১ ফোঁটা করে ২ নাকে ৪ বার অথবা ৬ বার দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার রাখুন।
৪। শ্বাসকষ্ট বা বুকে ঘড় ঘড় আওয়াজের জন্য সিরাপ স্যালবিউটামল ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রংকোলাইটিস এর লক্ষণ

নিউমোনিয়ার মতো শিশু এতটা অসুস্থ হবে না। শিশু মোটামুটি হাসি খুঁশি থাকবে কিন্তু বুকে বাঁশির মতো আওয়াজ হতে পারে। শরীরে অল্প তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে আর এই তাপমাত্রা ১০০ থেকে ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট হতে পারে। প্রথম দিকে নাক দিয়ে পানি পড়বে তারপর দুই একদিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট শুরু হবে। ব্রংকোলাইটিস সাধারণত রেসপিরেটরি ভাইরাস দিয়ে বেশি হয়। তবে অন্য ভাইরাস যেমন ইনফুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফুয়েঞ্জা এ্যাডিনো ভাইরাস দিয়ে হতে পারে। ২ মাস থেকে ২ বছর শিশুদের বেশি আশংকা থাকে এই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার। তবে ৬ মাস থেকে ৯ মাস পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্তের পরিমান বেশি হয়।

আপনার যা করনীয়

১। বাসায় রেখে চিকিৎসা করাতে পারেন।
২। নাক গলা পরিষ্কার করতে হবে।
৩। বেশি করে তরল খাদ্য খাওয়াতে হবে।
৪। নাকে নর্মাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।
৫। সাধারণত এ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে না। তবে শিশুর বয়স যদি ৩ মাসের নিচে হয় তবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
৬। শ্বাসকষ্টের জন্য সিরাপ স্যালবিউটামল ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরিশেষে, জ্বরের জন্য সিরাপ প্যারাসিটামল ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে শিশুর বয়স যদি ৩ মাসের নিচে হয় এবং অন্য কোন রোগের কারণে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বেশ কিছুদিন ধরে সেবন করে সে ক্ষেত্রে ব্রংকোলাইটিস আরো খারাপ হতে পারে। এমতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করাই শ্রেয়।

5 COMMENTS

  1. Hi, yeah this piece of writing is truly fastidious and I have
    learned lot of things from it concerning blogging. thanks.

  2. Excellent blog right here! Additionally your web site rather a lot up fast!
    What host are you the usage of? Can I am getting your
    affiliate hyperlink in your host? I wish my website loaded up as fast as yours
    lol.

  3. I believe this is one of the most significant information for me.
    And i’m satisfied reading your article. However wanna commentary on few general things, The site taste
    is great, the articles is in point of fact excellent :
    D. Just right job, cheers

  4. Hello.This post was really motivating, especially since I was
    investigating for thoughts on this topic
    last Friday.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here