বাচ্চা না হওয়ার কারন ও প্রতিকার । সন্তান হওয়ার উপায়

0
125
গর্ভ ধারন

বিশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে ৪০ শতাংশ নারী গর্ভ ধারন সমস্যাতে ভুগে থাকেন। বিশ্বে হাজার হাজার নারী বাচ্চা না হওয়ার কারনে সংসার ভেঙে যাচ্ছে, এছাড়াও তাদের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যা তাদের জন্য একটি বড় ধরনের চিন্তার বিষয়। বাচ্চা ধারনে অক্ষমতা শুধু মাত্র যে নারীর সমস্যা নয় বরং এর সমস্যাতে পুরুষ ও দ্বায়ী। তবে আপনি ধৈর্যশীল হতে পারলে অবশ্যয় আপনার সন্তান ধারন সম্ভব।

সন্তান না হওয়াকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। সন্তান হলো স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মধুর সেতু বন্ধন, দাম্পত্য সম্পর্ক পরিপূর্ণ ভাবে তাতে পুর্ণতা পায়। আমাদের চারপাশে এমন দাম্পত্য অশংখ্য বিরাজ মান। সন্তান না হলে প্রথমেই ভেঙে পরবেন না। মনবল শক্ত রাখুন, হাজারও রকম মেডিসিন খাওয়া বন্ধ করে যে কোন একটি চিকিৎসা গ্রহন করুন।

মূলত গর্ভ ধারনে সমস্যা সৃষ্টি হয় অনিয়মিত মাসিকের কারনে। অথচ আমাদের চারপাশের এমন কিছু মানুষ আছে যারা অনিয়মিত মাসিকের প্রতি তেমন কোন লক্ষ্য রাখে না এবং কোন চিকিৎসা করে না। অনিয়মিত মাসিক গর্ভ ধারনে বাধা সৃষ্টি সহ শরীরে নানা রকম রোগের সৃষ্টি করে থাকে।

পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারন

পুরুষের সিমেনে উপযুক্ত পরিমাণে গতিশীল স্পার্মের অভাব। একটি সুস্থ্য পুরুষ যে পরিমান বীর্য পাত করে থাকে তার কার্যক্ষমতার থেকে কম গতিশীল হলে গর্ভধারনে সমস্যা হয়। এছাড়া সিফিলিস, গনোরিয়ার মত রোগ থাকলে সমস্যা হয়। শুক্রাণুর উৎপাদন সমস্যা, যা হতে পারে গুণগত বা সংখ্যাগত ভাবে কর্যক্ষমতা কম, তাছাড়া গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শুক্রাণুর তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে শুক্রানু মন্থর অব্ষথায় থাকে যা গর্ভধারনে সমস্যা হয়। অনেক পুরুষের অকাল বীর্য পাতের কারনে বীর্যের ঘনত্ব কম হয়ে যায়। যাদের ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্ত চাপ আছে তাদের ব্লাড প্রেসারের মেডিসিন যেমন নিফিডিপিন শুক্রাণুর ডিম্বাণু নিষিক্তকরণ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। অ্যালকোহল শরীরের বিষেশ কিছু ক্ষতি সাধন করে থাকে তার মধ্যে অন্যতম শুক্রাণুর কার্য ক্ষমতা হীনতা।

নারীর বন্ধ্যাত্বের কারন

নারীদের ২৫-৩০ বছর বয়স সন্তান জন্মদানের উপযুক্ত সময়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ্যাত্বের সমস্যাগুলো জটিল আকার ধারন করে। যত বয়স বাড়তে থাকে ডিম্বাণুর সংখ্যা তত কমতে থাকে। বয়সের সঙ্গে ডিম্বাণুর কোয়ালিটি নষ্ট হতে থাকে, সেই সঙ্গে দেখা দেয় জেনেটিক নানা ধরনের ত্রুটি। কিছু কিছু নারীর শরীরে হরমোন জনিত রোগ থাকতে পারে এছাড়া শরীরে জটিল পুরাতন রোগ যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব ইত্যাদি।

প্রতিকার

বিশ্বের সমগ্র জনসংখ্যার ৮-১০ ভাগ দম্পতি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছে। নারীর ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সে প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়। পিরিয়ড শুরু হওয়ার সময়ে মাত্র ৩ লক্ষ ডিম্ব সক্রিয় থাকে, এর পুর্বেই বেশিরভাগ ডিম্বানু নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসিক ঋতুকালে মাত্র একটি ডিম্বানু পরিপক্ক হয়। গর্ভ ধারনের জন্য নারীকে ৪০ শতাংশ ও পুরুষকে ৩৫ শতাংশ ত্রুটি ধরা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে গর্ভ ধারণ না হওয়ার জন্য মেয়েদেরকে দায়ি করা হয়। সন্তান লাভের আশায় কোনো দম্পতি কোনো ধরনের জন্মনিরোধক উপায় অবলম্বন ছাড়া এক বছর পরও যখন স্ত্রীর গর্ভধারণ হয় না তখন আমরা তাকে বন্ধ্যত্ব বলে থাকি এবং সেই সাথে নারীকে দোষারোপ করে থাকি। পুরুষের ক্ষেত্রে অবশ্যই বীর্য পরীক্ষা করতে হবে। নারীকে অবশ্যই ইউরিন টেষ্ট করতে হবে। নারী ও পুরুষের উভয়ে হরমোন টেষ্ট করতে হবে। নারীর শরীরে হিমোগ্লোবিনের কোন ত্রুটি আছে কি না সেটা টেষ্ট করতে হবে।

নারীর অনিয়মিত মাসিক হলে সর্বপ্রথম একজন গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার দেখান। পরিকল্পিত ভাবে যৌন মিলনের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। যতটা দ্রুত নারী ও পুরুষ উভয়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহন করুন। হাজার রকম মেডিসিন খাবেন না, পরিমিত ঘুম, খাওয়া, গোসল এই দিকে নজর রাখুন। বাচ্চা গ্রহনের কোন প্রকার ইনজেশন নিয়ে থাকলে তা এখনই বন্ধ করে দিন। জন্ম রোধক সকল পন্থা পরিহার করুন। নানা রকম চিকিৎসা আপনাকে বিভ্রান্ত করবে তাই দূঃচিন্তা ছেড়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here