মাইগ্রেনের ব্যথায় করণীয়, মাইগ্রেনের ব্যথার লক্ষন ও চিকিৎসা

0
601
মাইগ্রেনের ব্যথা

পৃথিবীর প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ মাইগ্রেনের ব্যথাতে ভূগে থাকে। মাইগ্রেনের ব্যথা খুবই অসহনীয় এবং এই রোগের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে অনেক দিন সময় লাগে। মাইগ্রেনের ব্যথা মুলত মাথার যে কোন এক পাশে হয়ে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা পুরো মাথাতে ছড়িয়ে যায়। এই ব্যথার কারনে মাথার ভিতরের ধমনী গুলো শুকিয়ে যেতে থাকে। তাছাড়া মাথার রক্ত নালীতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে দেয় ফলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ একটি পরীক্ষাতে পাওয়া যায় সারা বিশ্বের তুলনায় আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মানুষ প্রতিনিয়ত মাইগ্রেনে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে দেখা গেছে ১৬ থেকে ৩৬ বছর বয়সের মানুষের মাইগ্রেনের ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। মাইগ্রেনে আক্রান্ত হলে সেই রোগী নিস্তেজ হয়ে যাওয়া অধিক পরিলক্ষিত হয়।

মাইগ্রেনের লক্ষণ সমূহ

১) মাথা ব্যথা যে কোন এক পাশ থেকে শুরু হয়।
২) বেলা বাড়ার সাথে ব্যথা তীব্র হতে থাকে।
৩) বমি বমি ভাব হওয়া ও বমি হওয়া।
৪) রাতে ভালো ঘুম হয় না।
৫) দুপুরে ঘুমালে বিকালে মাথা ব্যথা হতে পারে।
৬) কথা বলতে ইচ্ছা করে না
৭) মাঝে মাঝে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৮) মেজাজ খিটখিটে ও ঘন ঘন হাই তোলা
৯) অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করা
১০) হটাৎ প্রচন্ড রাগ হওয়া সহ নানা রকম লক্ষণ দেখা যায়।

মাইগ্রেন ব্যথার ঝুঁকি বেশি থাকে যাদের

যারা অনেক সময় আলোর সামনে বসে থাকে যেমন কম্পিউটারে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, স্মার্ট ফোনের আলোর সামনে, রোদে হাটা চলা করা, অতিরিক্ত কফি পান করা, অতিরিক্ত মোবাইলে কথা বলা, জন্মনিয়ন্ত্রন পিল সেবন করা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব হওয়া, দুশ্চিন্তা করা, অতিরিক্ত ভ্রমণ ও ব্যয়াম করলে মাইগ্রেনের ঝুঁকি বেশি থাকে।

চিকিৎসা

মাইগ্রেনের চিকিৎসার সর্বপ্রথম ধাপ হলো সমসময় সর্তকতা অবলম্বন করা। আপনার উপরোক্ত লক্ষণ গুলো দেখা দিলে আপনি নিউরোলজি বিষয়ক একজন ভালো ডাক্তার দেখাতে পারেন। মাইগ্রেন ব্যথার জন্য কিছু টেষ্ট করতে হয় যেমন হরমোন ও রক্ত। অনেকে মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের ব্যথা হলে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ক্যাপসুল “নরটিন” সেবন করতে থাকে। এটা মোটেও ঠিক নয়। একজন চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন যে আপনার কোন ঔষধটি প্রয়োজন। মাইগ্রেনের ব্যথা হলে যতটা সম্ভব কম্পিউটার ও স্মার্ট ফোন পরিহার করুন। পঁচা বা বাসি খাবার কখনোই খাবেন না সর্বদা টাটকা ও সতেজ খাবার খাবেন। ধুমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্যাদি পরিহার করুন। রোদে সানগ্লাস পড়ুন। দুপুরে ঘুমাবেন না এবং অতিরিক্ত কফি, চকলেট খাবেন না। রাতে ঘুমানোর পূর্বে এক গ্লাস দুধ পান করবেন এতে আপনার মাথার কোষ ও ধমনী গুলো স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে। তাছাড়া রাতে ঘুমানোর পূর্বে অবশ্যই ঘরের সকল লাইট ও আলো বন্ধ করে ঘুমাতে যাবেন। তাড়াহুড়া করে ঘুম থেকে না উঠে স্বাভাবিক ভাবে ঘুম থেকে উঠুন ও পরিমান মত সকালে নাস্তা করুন। খালি পেটে কোথাও যাবেন না এবং গরমের সময় অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া থেকে বিড়ত থাকুন।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে এবং এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার ও পোষ্টের নিচে আপনার মতামত দিয়ে সাথেই থাকুন।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here