মাশরুম খেলে কি হয়, মাশরুম খাওয়ার উপকারিতা

0
380
মাশরুম

মাশরুম একটি সুস্বাদু খাবার। মাশরুমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন পাওয়া যায় যা অন্য কোন খাদ্য তালিকাতে নেই। মাশরুম সালাদ হিসাবে, ভেজে, চপ বানিয়ে, ভুনা রান্না করে ও সুপ করে খাওয়া যায়। তবে অবশ্যয় চাষ করা মাশরুম খেতে হবে। বুনালো বা জঙ্গলে যে মাশরুম গুলো পাওয়া যায় সেই গুলো মারাত্বক বিষাক্ত। এই ধরনের মাশরুম কে চলিত ভাষায় ব্যাঙের ছাতা বলা হয়ে থাকে। এই গুলো খেলে আপনার বমি শুরু হবে, ডায়রিয়া হবে, মুখ ফুলে যাবে তাছাড়া সাথে সাথে মৃত্যুও হতে পারে। তাই মাশরুম খাওয়ার দিকে বেশ ভালো নজর রাখতে হবে।

কেউ একবার মাশরুম খেয়ে থাকে তবে তিনি বারবার খেতে চাইবে। অথচ আমরা মাশরুম খেতে চাইনা বা চোখেই পরে না। আসুন জেনে নেয়া যাক মাশরুম খেলে কি হয় বা এর উপকারীতা সমূহঃ

মাশরুম খাওয়ার উপকারীতা

১) মাশরুমে শর্করা ও চর্বি কম থাকার কারনে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও মাশরুমে প্রচুর আশ পাওয়া যায় যা কোষ্ঠকাঠিণ্যতা দূর করে। মাশরুম শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন রাখে এবং অকাল চুল পড়া রোধ করে থাকে।

২) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে মাশরুম অতুলনীয়। প্রাকৃতিক ভাবে চাষ করার ফলে মাশরুমে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন, ক্যালরী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রচুর বৃদ্ধি করে থাকে।

৩) মাশরুম শরীরের অতিরিক্ত মেদ, চবি কমিয়ে দেয়। এছাড়াও মাশরুমের বড় একটি গুন ওজন হ্রাস করা। যাদের ওজন সাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত তাদের নিয়মিত মাশরুম খাওয়া উচিৎ। শরীরের পেশী করে তোলে শক্তিশালী ও রক্তে চিনি পরিমান কমিয়ে দেয় যা সুস্থ্য থাকার জন্য অত্যান্ত জরুরী।

৪) মাশরুমে প্রচুর পরিমাণ আয়রন পাওয়া যায়। যারা অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য মাশরুম কার্যকরী। অ্যানিমিয়া রোগীদের রক্তে আয়রনের পরিমাণ খুব কম থাকে। ফলে মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়, মাথার যন্ত্রণা এবং বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। তাই মাশরুম অ্যানিমিয়া রোগ প্রতিরোধ করে থাকে ও রোগীর জন্য একটি আদর্শ খাবার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

৫) মাশরুমে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম বিদ্যমান থাকায় মানব দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে থাকে। অনেকের ক্যালসিয়ামের অভাবে হাত পায়ের হাড়ে ব্যথা অনুভূূত হয়ে থাকে এবং হাড় শক্ত ও মজবুত করতে মাশরুম ভূমিকা পালন করে।

৬) মাশরুম ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে যেমন স্তন ক্যান্সার এবং প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে মাশরুম অন্যতম। মাশরুমের ফাইটোকেমিক্যাল যে কোন টিউমারের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।

৭) ত্বকের জন্য মাশরুম বেশ ভালো ফলাফল দেয়। প্রতিনিয়ত মাশরুমের সুপ খেলে ত্বকের যে কোন রোগ দূর হবে। তৈলাক্ত ত্বক যাদের তারা মাশরুম খেলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে।

৮) সবজিতে তেমন ভাবে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না কিন্ত মাশরুমে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় যা দাঁতের ও চোখের জন্য উপকারী। মাশরুমে ভিটামিন ডি থাকায় ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কি ভাবে মাশরুম খেতে হয়

মাশরুম অনেক দিন পর্যন্ত ধরে রাখা যায় এবং বাজার জাত করা যায়। তাই মাশরুম সহজে নষ্ট হয় না ফলে সব ঋতুতে মাশরুম খাওয়া যায়। মাশরুম ভাজি বা রান্না করার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পূর্বে গরম পানি দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে সবজির মত রান্না করতে হবে। মাংশের মধ্য দিয়ে মাশরুম রান্না করে খেলে সবচেয়ে বেশি স্বাদ পাওয়া যায়।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে এবং এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার ও পোষ্টের নিচে আপনার মতামত দিয়ে সাথেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here