মোটা হওয়ার সহজ উপায়, মোটা হতে করনীয়

0
123
মোটা হওয়ার সহজ উপায়

সারা পৃথিবীতে মানুষ পাতলা বা ওজন কমাতে চাই সেখানে যদি কেউ মোটা হওয়ার কথা বলে তাহলে অনেকেই হয়তো অবাক হবে। কিন্তু এটাই বাস্তবতা যে পৃথিবীতে হাজার হাজার নারী পুরুষ মোটা হওয়ার জন্য নানা রকম পন্থা অবলম্বন করে থাকে। অনেকে আবার নানা রকম মেডিসিন সেবন করে থাকে যা শরীরে মারাত্বক ক্ষতির প্রভাব ফেলে। প্রতিনিয়ত দেখা যায় টেলিভিশন ও পত্রিকাতে মোটা হওয়ার মেডিসিনের বিজ্ঞাপণ প্রচার করা হয় আর এর ফলে অনেকে আকৃষ্ট হয়ে সেই সব মেডিসিন ক্রয় করে সেবন করা শুরু করে। একটা বিষয় মনে রাখবেন যারা বিজ্ঞাপন প্রচার করছে তাদের ভাষা জ্ঞান শুনলে বোঝা যায় যে তারা মানুষ কে প্রলভোন দেখাচ্ছে। কথায় আছে খালি কলস বাঁজে বেশি। তাই মোটা হওয়ার জন্য এই সকল মেডিসিন থেকে দূরে থাকুন এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি অবশ্যয় মোটা হতে পারেন। চলুন সেই সব বিষয় গুলো জেনে নেয়া যাক।

মোটা হতে করণীয়

১) প্রতিদিন রাতে ১ গ্লাস ঠান্ডা পানির মধ্যে ৭ থেকে ১০ টি কাঠ বাদাম ও কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন। সকালে দেখবেন বাদাম ও কিসমিস গুলো পানি পেয়ে ফুলে গেছে। এখন বাদাম ও কিসমিস গুলো চিবিয়ে খেয়ে নিন। নিয়মিত তিন সপ্তাহ সেবন করলে আপনার শরীরের ওজন বাড়তে থাকবে এবং মোটা হতে সাহায্য করবে।

২) প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে একটি করে ডিম সিদ্ধ বা ডিম ভাজি খান। ডিমে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালোরী পাওয়া যায় যা আমাদের শরীরে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি করতে সহযোগীতা করে। তবে ডিম ভেজে খেলে মোটা হতে বেশি কার্যকরী। তেলের পরিবর্তে ঘি দিয়ে ডিম ভাজি করে খেতে পারেন। ডিম ও ঘি অতি উচ্চ মাত্রার ফ্যাট।

৩) আপনি কি ঘুমানোর আগে দুধ পান করেন? যদি না পান করে থাকেন তবে আজ থেকে শুরু করুন। ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ পান করুন। এতে আপনার শরীরের রক্ত চলাচল, হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন, শরীরে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি সহ আপনার ব্রেন কার্যকর রাখবে। দুধ একটি ফ্যাট ও প্রোটিন জাতীয় খাবার তাই ওজন বাড়াতে দুধ ভালো কাজ দেয়।

৪) মানুষ তখনই মোটা হয় যখন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালোরী জমা থাকে। আপরা সারা দিন যে কাজ কর্ম করে থাকি তার একমাত্র চালিকা শক্তি ক্যালোরী। ক্যালোরী মূলত আমাদের শরীরে চার্জের ভূমিকা পালন করে। তাই সারা দিনে যত টুকু ক্যালোরী খরচ করলেন তার থেকে দ্বিগুণ ক্যালোরী অর্জণ করুন। আর এই জন্য প্রোটিন ও ক্যালোরী যুক্ত খাবার খাওয়া বাধ্যতা মূলক।

৫) সারা দিনে আপনি যত টুকু খাবার খেয়ে থাকেন তার থেকে একটু একটু করে বেশি খাবার খাওয়ার চেষ্টা বা অভ্যাস তৈরী করুন। যদি আপনি সারা দিনে ৩ বার খাবার খেয়ে থাকেন তবে আপনি আরও একবার যোগ করুন। সর্বদা চেষ্টা করুন ফ্রেশ খাবার খাওয়া।

৬) প্রতিদিন নিয়মিত ব্যয়াম করুন। এখানে প্রশ্ন উঠবে ব্যয়াম করলে আবার ওজন বাড়বে কি ভাবে? অবশ্যয় ব্যয়াম করলে ওজন বৃদ্ধি পাবে। কারন আপনার শরীরে চর্বির থেকে আপনার পেশি বেশি ওজন হয়ে থাকে। আর শুধু মোটা হলে চলবে না, নিয়মিত ব্যয়াম করলে আপনার শরীর সঠিক মাত্রায় গঠিত হবে। তাছাড়া ব্যয়াম করলে আপনার অতিরিক্ত ক্ষুধাও লাগবে আর আপনি পেট পুরে খাবারও খেতে পারবেন।

৭) নিয়মিত ঘুম এটা আমাদের সবার জন্য অপরীহার্য। প্রতিদিন নিয়ম করে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন। আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন আপনার শরীরের প্রতিটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং কোষ তাদের কার্যকলাপ করে থাকে। আর পরিমান মত ঘুমালে শরীরে ওজন বেড়ে যায়।

সর্বশেষে, কম ওজন থেকে ওজন বাড়াতে গেলে নানা রকম সমস্যা হবে, যেমন অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরে প্রচুর ঘাম হওয়া, গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা হওয়া, অস্থিরতা কাজ করা, ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়া, শরীরে রক্ত চাপ বৃদ্ধি পাওয়া সহ নানা রকম সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা গুলো পতিহত করে নিয়মিত উপরোক্ত বিষয় মেনে চললে আপনার শরীরে ওজন বৃদ্ধি পাবে। খাবার খান কোন সমস্যা নেই তবে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here