যক্ষা রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সমূহ

0
557
যক্ষ্মা রোগ

যক্ষা একটি মারাত্বক রোগ। যক্ষা রোগ মুলত ইংরেজী ভাষায় টি.বি বলা হয়ে থাকে। যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রকৃত ভাবে অনেকে যক্ষার চিকিৎসা ঠিক মত সম্পন্ন করে না ফলে যক্ষার ভয়ানকতা বোঝা যায় না, কিন্তু রোগী ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় এবং পরর্তীতে মারা যায়। যক্ষা যে কোন বয়সের মানুষের হতে পারে তবে ১৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মানুষের বেশি হয়ে থাকে।

যক্ষ্মা রোগ এর লক্ষণ সমূহ

১) শুকিয়ে যাওয়া
২) খুসখুস কাশি হওয়া
৩) জ্বর জ্বর ভাব হওয়া
৪) অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
৫) ক্ষুধা মন্দা হওয়া
৬) ভালো না লাগা
৭) শরীরে শক্তি কম পাওয়া
৮) ঝিমুনি ধরা

যক্ষা কত প্রকার হয়ে থাকে?

যক্ষা শুধু ফুসফসে হয় না। যক্ষা শরীরের যে কোন জায়গাতে হতে পারে। শরীরের অন্য কোন জায়গাতে হলে কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেমন চামড়া ফুলে ওঠা, লাল হয়ে যাওয়া, সাবান ব্যবহার করলে চুলকানি হওয়া। এছাড়াও আরও দুটি যক্ষা আছে যার নাম ম্যানেঞ্জিয়াল যক্ষা এবং মিলিয়ারি যক্ষা।

যক্ষা হলে করনীয় কি?

প্রথমত যক্ষা বেশির ভাগ ফুসফুসে হয়ে থাকে। যক্ষা রোগীর মাধ্যমে এই রোগ সুস্থ্য মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। আর এই রোগের জীবানু শরীরে প্রবেশ করার একটাই মাধ্যম সেটা হলো হাঁচি বা কাশি। তাই যক্ষা রোগীর হাঁচি বা কাশি থেকে একটু দুরে থাকতে হবে। অনেকে মনে করেন যক্ষা রোগীর সাথে ঘুমানো যাবে না, একসাথে খাবার খাওয়া যাবে না, এক গ্লাসে পানি পান করা যাবে না, এমনকি কোন জিনিজ পত্র বা পোষাক ছোঁয়া যাবে না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। একমাত্র হাঁচি, কাশি ছাড়া সব কিছু আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথে করা যাবে।

চিকিৎসার প্রথম ধাপ

বাংলাদেশে ব্রাক ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একসাথে যক্ষা নিয়ন্ত্রনে কাজ করে। তাই ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি, জ্বর সহ যক্ষার উপসর্গ দেখা দিলে নিকটস্থ ব্রাক বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে। সেখান থেকে চিকিৎসক বা কর্মরত ব্যক্তি কিছু টেষ্ট করাতে দিবে। যেমন, বুকের এক্স-রে, এম.টি টেষ্ট সহ কফ টেষ্ট। এই টেষ্টগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিবি হাসপাতাল থেকে করা সম্ভব।

চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ

উপরোক্ত টেষ্ট গুলো সম্পন্ন করে খুব দ্রত ব্রাক বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে। এরপরে আপনার যক্ষা বা টিবি ধরা পরলে আপনাকে সরকারী হাসপাতালের এম.বি.বি.এস ডাক্তর প্রদত্ত কিছু মেডিসিনের প্রেসক্রিপশন করে দিবে। যা আপনাকে ছয় মাস সেবন করতে হবে। ছয় মাস মেডিসিন সেবন করার পরে উপরোক্ত টেষ্ট গুলো পুনরায় করতে হবে এবং তার রিপোর্ট গুলো নিয়ে আবার সরকারী হাসপাতালে এম.বি.বি.এস ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি আপনার রিপোর্ট গুলো ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এরপরে যদি আপনার যক্ষা বা টিবি ভাইরাস শরীরে থাকে তাহলে আপনাকে আরও তিন মাসের একটি কোর্স দেয়া হবে।

যক্ষার মেডিসিন কোথায় পাবো?

যক্ষার মেডিসিন কোন ফার্মেসীতে পাওয়া যায় না। যক্ষার সকল মেডিসিন ব্রাক বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে প্রদান করবে।

আশাকরি, যক্ষা হলে ঘাবরানোর কিছু নেই। উপরোক্ত বিষয় গুলো মেনে চললে যক্ষা থেকে ১০০% মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here