রক্তদানের উপকারীতা, রক্তদানের পূর্বে যা করনীয়

0
469
রক্তদানের উপকারীতা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগ থেকে মানুষের শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার শুরু এবং মানুষের দেহে রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে অসংখ্য অসংখ্য মানুষকে মৃত্যুর পথ থেকে সুস্থ করা হয়ে আসছে। রক্তদানে শরীরের কোন ক্ষতি হয়না বরং উপকার হয়। ছেলেদের শরীরের প্রতি কেজি ওজনে ৭৬ মিলি লিটার এবং মেয়েদের শরীরের প্রতি কেজি ওজনে ৬৬ মিলি লিটার রক্ত থাকে আর বাকিটুকু থাকে উদ্বৃত্ত। তাই রক্তদানে শারীরিক কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। একজন সুস্থ মানুষ প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর রক্ত দান করতে পারে। মানুষের শরীররে রক্ত উপাদান গুলি প্রতি তিন থেকে চার মাস পর এমনিতেই নষ্ট হয়ে নতুন রক্ত উৎপাদিত হয় থাকে।

রক্তদানের উপকারিতাঃ

রক্তদান করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার শরীরের মধ্যে অবস্থিত নতুন লোহিত কণিকা তৈরির জন্য প্রস্তুত হয়। রক্তদানের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন লোহিত কণিকার জন্ম হয়। নিয়মিত রক্তদানে হৃদযন্ত্রের উন্নতি হয়। রক্তে যদি লৌহের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে তাহলে কোলেস্টেরল এর অক্সিডেশনের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ধমনী ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত রক্তদান করলে শরীরে লৌহের পরিমাণ কমে যায় ফলে হৃদ রোগের ঝুঁকি কমে যায়। অতিরিক্ত ক্যালরি ক্ষয় থেকে বাঁচা যায় ও নিয়মিত রক্তদান করলে শারীরিক ফিটনেস ও উজ্জলতা বৃদ্ধি পায় সেই সাথে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়বেটিসের ঝুঁকি থাকে না।

রক্তদানে যে গুলো থেকে মুক্ত থাকা যায়ঃ

রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কি’না সেটা আপনি জানতে পারবেন, যেমন- হেপাটাইটিস-বি ও সি, সিফিলিস, এইচআইভি বা এইডস ক্যান্সার, চর্মরোগ, এলার্জি, রক্ত উৎপাদন ক্ষমতা, হরমোন সহ আরও অনেক কিছু। আপনি রক্তদান করলে অবশ্যয় জটিল, পুরাতন বা দুরারোগ্য রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

রক্তদানে আপনার যা করনীয়ঃ

১৮ বছর বয়সের কম তাদের রক্তদান করা উচিৎ নয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ রক্তদান করতে পারবেন কিন্তু আপনি যদি সম্পূর্ণ সুস্থ্য না থাকেন তাহলে রক্তদান আপনার জন্য নয়।
১) আপনি যদি কোনো কারণে অসুস্থবোধ করেন তাহলে রক্ত দেয়া থেকে বিরত থাকুন
২) রক্তদান করার পূর্বে প্রোটিন, আমিষ ও পুষ্টিকর খাবার খাবেন তবে তৈলাক্ত খাবার খাবেন না।৩) রক্ত দানের পূর্বে প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা পানি, গ্লুকোজ ও পানি জাতীয় তরল খাবার খাবেন।
৪) রক্তদানের পূর্বে পরিমান মত স্বাভাবিক ভাবে অনেকটা সময় ঘুমিয়ে নেবেন।
৫) দুপুরে কখনোই রক্তদান করবেন না এবং ভরাপেটে রক্তদান থেকে বিরত থাকুন।
৬) খালি পেটে রক্তদান না করে তরল ও পরিমান মত প্রোটিন যুক্ত খাবার হালকা খেয়ে রক্ত দিন।৭) রক্তদানের পরে অনেকটা সময় শুয়ে থাকবেন। হুট করে উঠে দাঁড়াবেন না বা বসবেন না।
৮) রক্তদানের পরে আয়রন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, কলা ইত্যাদি খাবার খাবেন।

পরিশেষে, আমরা সবাই জানি যে, একজনের শরীরের রক্তের গ্রুপ না মিললে অন্য জন রক্ত গ্রহন করতে পারে না। তবে এটা খেয়াল রাখতে হবে যে, রক্ত গ্রহন বা দান করার পূর্বে খুব ভালো করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। অনেকে আবার রক্ত দিতে দ্বিধায় ভোগেন। এর কারণ রক্তদানের পদ্ধতি ও পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভয়-ভীতি। প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ তিন থেকে চার মাস পরপর রক্তদান করতে পারেন। রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here