রমজানের সুস্থ্যতা, রমজানে সুস্থ থাকার সহজ উপায়

0
260
রমজানের সুস্থ্যতা

সারা পৃথিবীতে শুরু হয়ে গেছে রমজান মাস। রমজান হলো মুসলিম জাতির জন্য প্রবিত্র ও নিয়ামতের মাস। মহান আল্লাহ তালা এই মাসে কোন খাবারের জন্য হিসাব নিবে না। সবকিছু তার মুমিন বান্দার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বারো মাসের মধ্যে শুধুমাত্র রমজান মাসটি ভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে হয় তাই স্বাস্থ্য ফিটনেস রাখতেও বেশ কিছু নিয়ম মানতে হয়।

রমজান মাসে মুসলমানরা সব ধরনের ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থেকে আল্লাহর সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। যে কারণে তারা রমজান মাসের প্রতিটি দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বিহীন চলেন। এতে স্বাস্থ্যর প্রতি তেমন কোন খেয়াল থাকে না যে কারনে অধিকাংশ মানুষ নানা ধরনের সমস্যাতে পরে।

রমজানে সুস্থ্য থাকার উপায়

১) সারা দিন না খেয়ে থাকার কারনে পেট শূণ্য অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় কোন প্রকার ভাজা-পোড়া খাবার খাওয়া যাবে না। অনেকের গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা থাকে, সারাদিন পরে ভাজা পোড়া খেলে পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা ও গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিবে। অনেকের ধারনা ইফতারীতে ভাজা পোড়া না খেলে সেটাকে ইফতার বলে নাকি, এই কথার কোন ভিত্তি নেই। ইফতার একটি মাত্র খেজুর দিয়েও সম্পন্ন করা যায়।

২) রমজান মাসে প্রায় সবাই পানি পান করে থাকে। এতে শরীর দূর্বল হয়ে পরে তাই রমজান মাসে প্রচুর পানি পান করতে হবে। ইফতারীতে বেশি খাবার না খেয়ে পানি জাতীয় খাবার খাবেন। হাতের কাছে একটি পানির বোতল রাখুন এতে আপনার পানি পান করার কথা মনে থাকবে।

৩) কখনোই সেহরী খাওয়া বাদ দিবেন না। হাতে কম সময় থাকলেও যতটুকু সম্ভব সেহরী খাবেন। সেহরীতে শর্করা, প্রোটিন যুক্ত খাবার, আঁশ জাতীয় সবজি, ফল ও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। খুব তাড়াহুড়া করে খাবার খাবেন না। সেহরী খেয়ে শুয়ে না পরে ফজরের নামাজ আদায় করুন।

৪) মহান আল্লাহ তালা সব খাবার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন বলে অতিরিক্ত ভুড়িভোজ করবেন না। সবর্দা চেষ্টা করুন পরিমান মত খাবার খেতে। রমজান মাস বাদে অনেকে গমের রুটি খেয়ে থাকে কিন্তু রমজান মাসে রুটি তেমন খাওয়া হয় না। তাই ইফতারীতে জল খাবার খেয়ে ১ ঘন্টা পরে রুটি খাবেন। রুটি একটি ফাইবার যুক্ত আর্দশ খাবার এবং রুটি শরীরের ক্যালোরী পূরুন করে।

৫) রমজানে অতিরিক্ত কাজ পরিহার করুন। যতটুকু কাজ করা আপনার অপরীহার্য ঠিক ততটুকু সম্পাদন করতে হবে। এছাড়া রমজানে দুপুরের পরে একটু ঘুমাতে পারেন। ঠান্ডা ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে একটু বিশ্রাম নিন।

৭) অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত ইফতারীতে খেজুর, ছোলা, পেয়ারা, আপেল, কলা, বেদানা, কমলা, মালটা, আনারস, আঙ্গুর, তরমুজ জাতীয় খাবার গ্রহন করুন।

৮) সেহরী খেয়ে সাথে সাথে শুয়ে পরবেন না বরং সেহরী খেয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট হাটুন। রোজা রেখেছেন তাই বলে একটু ব্যয়াম করবেন না তা হয় না। সকালে কিছুটা হাটা হাটি করুন এতে আপনার শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকবে।

৯) অনেকে অতিরিক্ত চা, কফি, পান ও ধুমপান করে থাকে। এইগুলো মুলত নেশা জাতীয় দ্রব্য। রমজান মাস উপলক্ষে এই নেশা জাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলুন এবং সম্পূর্ণ পরিহার করুন। ইফতারের সময় এবং পরে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন চা, কফি বা সোডা জাতীয় পানীয় এবং কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদি পান করা থেকে দূরে থাকুন।

১০) রমজান মাসে প্রতিটা মানুষের জীবনধারা পরিবর্তণ হয়ে যায়। তাই সবসময় হাতের কাছে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেডিসিন রাখুন।

সিয়াম সাধনার মাস রমজান মাস। তাই রমজান মাসের প্রবিত্রতা রক্ষা করতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহতালা যতটুকু সার্মথ্য দিয়েছেন ততটুকু দান করুন। নিজে সুস্থ্য থাকুন, আশেপাশের সবাইকে সুস্থ্য রাখুন।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here