শিশুর মুখের লালা পড়া দূর করার সহজ কিছু উপায়

0
148
শিশুর

শিশু জন্মের পরে মুখের লালা পড়া একটা স্বাভাবিক বিষয়। এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। শিশুর মুখ দিয়ে লালা বের হওয়াকে চিকিৎসা ভাষায় ড্রুলিং বলে। সাধারনত আমাদের মুখে ছয়টি গ্রন্থি থাকে যে গুলো লালা উৎপন্ন করে। কিন্তু শিশুদের গ্রন্থি গুলো স্বাভাবিক ভাবে গঠিত থাকে না ফলে লালা বের হয়।

কত বয়স পর্যন্ত লালা বের হতে পারে

১ বছর থেকে ৪ বছর পর্যন্ত শিশুর মুখ দিয়ে লালা বের হতে পারে। কারন এই সময় কালে শিশুর মুখের স্নায়ু ও পেশি বাড়তে থাকে ফলে সাধারনের থেকে লালা বেশি উৎপন্ন হয়ে থাকে। তবে অবশ্যেই মনে রাখতে হবে যে, শিশু ৪ বছর অতিক্রম করার পরেও যদি লালা বের হতে থাকে তাহলে এটা স্বাভাবিক ভাবে নেয়া যাবে না। অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

শিশু বড় হওয়ার সাথে লালার সর্ম্পক

শিশু বড় হওয়া ও দাঁত ওঠার সময় লালা বের হয় একটু বেশি। শিশু বেড়ে ওঠার সাথে সাথে ঘ্রাণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং কোন খাবারের ঘ্রাণ পেলে মুখ দিয়ে লালা বের হতে পারে। শিশুর যখন পরিপূর্ণ ভাবে শরীর বৃত্তীয় মুখের গ্রন্থিগুলো বাড়ন্ত হয়ে ওঠে তখন আপনা আপনি লালা বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আবার অনেক সময় হরমোন জনিত সমস্যা থাকলে শিশু বেড়ে ওঠার সাথে সাথে লালা বের হওয়া আরও বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত লালা বের হওয়ার কারণ কি

যদি শিশুর দাঁত আট মাসের মধ্যে না ওঠে তাহলে মুখে অতিরিক্ত লালা হতে পারে। মুলত শিশুর মুখে লালা অতিরিক্ত তখনই হয় যখন দাঁত মাংস ভেদ করে উপরে বের হয়ে আসে। এই সময়টাতে শিশুর জিহ্ববা তে লবণাক্ত একটা স্বাদ হতে পারে।

অনেক সময় শিশুর ঠান্ডা জনিত বা অভ্যাসগত সমস্যার কারনে মুখ হা করে ঘুমিয়ে থাকে। এইদিকে মুখের লালা গ্রন্থি মুখে লালা উৎপন্ন করতে থাকে। এক পর্যায়ে লালা মুখে বেড়ে গেলে তা মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই শিশুকে অবশ্যই মুখ বন্ধ করে ঘুমানোর অভ্যাস করাতে হবে।

শিশুর স্নায়ু তন্ত্রে কোন রোগ থাকলে মুখে অতিরিক্ত লালা হতে পারে। গর্ভে থাকা কালীন অপুষ্টি জনিত কারনে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ফলে রোগ আক্রান্ত হয়ে থাকলে মুখে লালা হতে পারে। স্নায়ু তন্ত্রের রোগ বরতে “বেলস পেলাসি” নামক রোগ থাকতে পারে। এই সমস্যা থাকলে মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বের হওয়া সহ চোখ দিয়ে পানি পড়তে দেখা যায়।

শিশু জন্মের পরে নানা রকম মেডিসিন সেবন করানো হয়ে থাকে। একটা কথা মনে রাখবেন প্রতিটা মেডিসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তাই শিশু কোন মেডিসিন সেবন করলে তার প্রভাব পরে শরীরের গ্রন্থিগুলো উপর। এই সময়ে শিশুর ঠোঁট ফুলে উঠা সহ মুখে অতিরিক্ত লালা উৎপন্ন হয়।

লালা পড়া বন্ধ করতে যা করনীয়

১) লালা বের হওয়ার সাথে সাথে আপনি মুছে ফেলবেন এবং শিশুর হাতে একটি টিস্যু দিয়ে লালা মুছে ফেলার অভ্যাস টা করিয়ে দিন।

২) হালকা নরম কিছু চিবাতে দিন তবে বেশি করে দিবেন না। একটু লক্ষ্য রাখবেন শিশু যেটা চিবাতে পছন্দ করে ঠিক সেটা।

৩) অনেক শিশু মুখ কা করে ঘুমায়। তাই আপনার শিশু হা করে ঘুমালে চেষ্টা করুন মুখটি বন্ধ করে দেওয়ার। তবে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবেন না।

৪) বাজারে ইলেকট্রিক ব্রাশ পাওয়া যায়। এটা সম্পূর্ণ ঝুঁকি মুক্ত, তাই একটি ইলেকট্রিক ব্রাশ শিশুর হাতে ধরিয়ে দিন এবং শিখিয়ে দিন মাড়ির উপর ঘষতে থাকার জন্য।

পরিশেষে, একটু লক্ষ রাখলে শিশুর অতিরিক্ত লালা পড়া বন্ধ করা সম্ভব। তারপরেও যদি চার বছর অতিক্রম করার পরে শিশুর অতিরিক্ত লালা পরে তাহলে অবশ্যই একজন শিশু ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। মনে রাখা বাহুল্য যে কোন মেডিসিন সেবন করার পূর্বে চিকিৎসকের নির্দেশ গ্রহণ করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here