সিপ্রোফ্লোক্সাসিন কি কাজ করে, সিপ্রোসিন এর কার্যকারিতা

0
2470
সিপ্রোফ্লক্সাসিন

সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ও সিপ্রোসিন একই মেডিসিন। সিপ্রোফ্লোক্সাসিন একটি উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়েটিক যা ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগের বিরুদ্ধে নির্দেশ করা হয়েছে। ১৯৮৭ সাল থেকে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ব্যবহার হয়ে আসছে। ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ সহ ব্যাকটেরিয়ার ডি.এন.এ নষ্ট করতে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সিপ্রোফ্লোক্সাসিন বা সিপ্রোসিন ট্যাবলেট, সিরাপ ও ইনজেকশন আকারে পাওয়া যায়। তবে ট্যাবলেট সিপ্রোসিন সাধারনত বেশি ব্যবহার হয়।

সিপ্রোফ্লোক্সাসিনের উপাদান

প্রতি ট্যাবলেটে রয়েছে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন হাইড্রোক্লোরাইড ২৫০ মিঃগ্রাঃ, ৫০০ মিঃগ্রাঃ এবং ৭৫০ মিঃগ্রাঃ। সিরাপে রয়েছে ২৫০ মিঃগ্রাঃ পাউডার এবং ইনজেকশন হিসাবে ২০০ মিঃগ্রাঃ হিসাবে পাওয়া যায়।

রোগ নির্দেশনা

১. টাইফয়েড জ্বর সহ ব্যথা
২. মূত্রনালীর সিফিলিস ও গনোরিয়া
৩. শ্বাসতন্ত্রের নিম্নভাগের সংক্রমণ
৪. চর্ম ও ত্বকের টিস্যুর সংক্রমণ
৫. অস্থিমজ্জা ও অস্থি সন্ধির সংক্রমণ
৬. পরিপাক তন্ত্রের সংক্রমণ ডাইরিয়া

মাত্রা ও সেবন বিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সংক্রমনের সুত্র অনুযায়ী প্রতি ১২ ঘন্টা পর পর ২৫০, ৫০০ অথবা ৭৫০ মিঃগ্রাঃ ট্যবলেট সেবন যোগ্য। শিশুদের জন্য ১০ থেকে ২০ মিঃগ্রাঃ সিরাপ ১২ ঘন্টা পর পর সেবন যোগ্য। এছাড়াও সংক্রমণ যদি অতিমাত্রার হয়ে থাকে তবে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ইনজেকশন গ্রহণ করা যাবে।

সেবন কাল

ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে দিনে দুই বার সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ট্যাবলেট ২৫০, ৫০০ অথবা ৭৫০ মিঃগ্রাঃ ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত সেবন করতে হবে। অস্থিমজ্জা বা অস্থির সংক্রমণের জন্য সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ৭৫০ মিঃগ্রাঃ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ দিনে দুইবার করে সেবন করতে হবে।

সতর্কতা

যে সকল রোগীর স্নায়ুতন্ত্র জনিত রোগ আছে যেমন এপিলেপসি, সিজার এবং খিচুঁনী থেকে থাকে তাদের জন্য ধীরে ধীরে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন সেবন করাতে হবে। তাছাড়া সিপ্রোফ্লোক্সাসিন অন্যান্য গ্রুপের সাথে অতি সংবেদনশীলতা রয়েছে। সিপ্রোফ্লোক্সাসিন সেবনের পরে দৌড়ানো, ব্যায়াম ও ভাড়ি যন্ত্রপাতি বহন করা যাবে না। মাঝে মাঝে ডায়রিয়াতে অতিরিক্ত পাতলা পানি যেতে পারে। তাই হাতের কাছে শরীরের প্রয়োজনীয় পানি পূরণ করার জন্য স্যালাইন রাখুন। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা সিপ্রোফ্লোক্সাসিন সেবন করলে নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করুন ও ডায়াবেটিসের মেডিসিন সেবন করুন।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

১. বমি হতে পারে
২. পরিপাকতন্ত্রীয় সমস্যা
৩. ঘুম ঘুম ভাব সহ ঝিঁমুনি
৪. মাথাব্যথা বা চোখে ঝাঁপসা
৫. কৃষ্টালিইউরিয়া সহ ক্লান্তি ভাব

পরামর্শ

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ট্যাবলেট, ইনজেকশন সম্পূর্ণ নিষেধ।

পরিশেষে, সকল প্রকার মেডিসিন অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে সেবন করা বাঞ্চনীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here