স্ক্যাবিস এর লক্ষণ, স্ক্যাবিস থেকে মুক্তির উপায়

0
1720

স্ক্যাবিস এমন এক সমস্যা যা কাউকে বলাও যায় না আবার ছোঁয়াও যায় না। প্রতিটি মানুষই জীবনে কখনো না কখনো এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কিছু চর্ম রোগ দেখা যায় শীত কালে কিন্তু গরমকালে তেমন একটা দেখা যায় না। যেমন খোস পাঁচড়া, দাদ, একজিমা ইত্যাদি। ঘনবসতী স্থানে মানুষের মাঝে ত্বকের এই প্রদাহ গুলো বেশি হয়ে থাকে এবং স্ক্যাবিস সেখানে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। স্ক্যাবিস হলে সেই ক্ষত স্থানে চুলকাতে আরাম দায়ক মনে হয়। আর চুলকানীর ফলে স্ক্যাবিস আরও বেশি পরিমানে ছড়িয়ে পরে।

স্ক্যাবিস কিঃ

স্ক্যাবিস চার ধরনের হয়ে থাকে যা ৯৫ শতাংশ ইকোথায়োসিস ভ্যালগারিস নামক। এটা মুলত জন্মগত ভাবে বেশি হয়। জেনেটিক প্যাটার্ন বা উত্তরাধিকার সুত্রে এমন রোগ হয়। জন্ম নেওয়ার পর তেমন কোন প্রভাব ফেলে না কিন্তু পরবর্তীতে বয়স যখন ৫ থেকে ৭ বছর হবে সেই সময় থেকে স্ক্যাবিস বংশ বিস্তার করে। নারী পুরুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাও একই হারে হয়। স্ক্যাবিস মারাত্বক প্রভাব না ফেললে চিকিৎসা নেওয়ার তেমন প্রয়োজন হয়না। এছাড়া বেশির ভাগ সময় আক্রান্ত স্থান কাপড়ে ঢাকা থাকে বিধায় কেউ দেখতে পায়না। শুষ্ক আবহাওয়া বিশেষ করে শীতকালে একটু বেশি চুলকানি দেখা দেয়।

স্ক্যাবিস রোগের বিস্তারঃ

স্ক্যাবিস একটি ছোয়াঁচে রোগ। স্ক্যাবিস পরজীবীটি খালি চোখে দেখা যায় না তাই অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা দেখতে হয়। এই পরজীবীটির মধ্যে স্ত্রী পরজীবী আমাদের ত্বকের নীচের স্তরে গর্ত করে সুড়ঙ্গের ন্যায় স্থান সৃষ্টি করে এবং এর মধ্যে ডিম ছাড়ে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এই ডিমগুলো ফুটে শূককীটগুলো ত্বকের উপরে প্রবেশ করে। তখন ক্ষত স্থানে কীটগুলো লার্ভাতে পরিণত হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকের অন্য স্থানে অথবা অন্য ব্যক্তির ত্বকে বিস্তার লাভ করে। অবশ্য এই পরজীবী ও পরজীবীর বর্জ্য শরীরে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

স্ক্যাবিসের লক্ষণ সমূহঃ

১) ত্বকে লাল প্রকৃতির গুটি দেখা যায়।
২) প্রচন্ড চুলকানির সৃষ্টি হওয়া।
৩) ত্বকের বিভিন্ন স্থানে ফুলে ওঠা।
৪) পা বা পায়ের পাতা ফুলে ওঠা।
৫) ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া।
৬) অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক মাসিক হওয়া।
৭) মাথার ত্বকে চুলকানি হওয়া।
৮) হালকা জ্বর জ্বর অনুভব করা।
৯) পুরুষের হাটু ও জননাঙ্গ লাল হয়ে যাওয়া।
১০) ক্ষত স্থান থেকে পানি বের হওয়া।
১১) মাঝে মাঝে প্রকট ব্যথা অনুভব করা।
১২) ক্ষত স্থানে ফুঁসকুঁড়ি সহ পুঁজ জমাট বাধা।
১৩) ক্ষত স্থানের চামড়া কালো ও মোটা হয়ে যাওয়া।
১৪) ‍ক্ষত স্থানে চুলকাতে আরাম দায়ক লাগা
১৫) খাবার খেলে রাতে প্রকট চুলাকানী হওয়া।

স্ক্যাবিসের চিকিৎসা সমূহঃ

স্ক্যাবিস রোগটি কখনই একে বারে ভালো হয়না। কারন জিনগত বা বংশগত সমস্যা থাকা। তাই স্ক্যাবিসের তেমন চিকিৎসা নেই তবে আধুনিক প্লাস্টিক সার্জারি করলে রোগটি সেরে যায় এবং চামড়ার দাগ সমুহ মিলিয়ে যায়। তারপরেও প্রাকৃতিক যে অবস্থাতে আছেন সেই রকম থাকাটাই সবচেয়ে ভাল কারন প্লাস্টিক সার্জারি অনেক ব্যয়বহুল। এছাড়া সবচেয়ে জরুরী যে বিষয় তা হল গোসল করার পর মসচারাইজিং জাতীয় লোশন ব্যাবহার করা অথবা পানির সাথে গ্লিসারিন যুক্ত তেল জাতীয় কিছু ব্যবহার করা। পেট্রোলিয়াম জেলি ও অয়েন্টমেন্ট বা ক্রিম সব সময় ব্যাবহার করার অভ্যাস রাখলে দেখবেন কিছু দিনের ভিতর স্ক্যাবিস অনেকটা কমে গেছে। চামড়ার দাগ মিলিয়ে যাওয়ার জন্য বাজারে কিছু ক্রিমের পাওয়া যায় এই গুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভাল কাজ হবে নিজে নিজে পরীক্ষা করে দেখবেন কোন ধরনের খাদ্য আপনার চুলকানি কে বৃদ্ধি করে। সে সকল খাবার খেলে আপনার অতিরিক্ত চুলকানি সৃষ্টি হয় সেই গুলো এড়িয়ে চলুন। যেমন হাঁসের ডিম, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, গরুর মাংশ, বেগুন, কচু ইত্যাদি। চিকিৎসকের কাছে থেকে চিকিৎসা নেওয়া শুরুর পরে থেকে গরম ও সাবানযুক্ত পানি দিয়ে আপনার ব্যবহৃত পোশাক, তোয়ালে ও বিছানা পত্র ভালো ভাবে পরিষ্কার করুন ও ভালো উচ্চতাপ রোদে পোশাক গুলো শুকিয়ে নিন। শুষ্ক আবহাওয়ার সময় অতিরিক্ত চুলকানী থেকে মুক্তি পেতে ইবনেসিনা ফার্মাসিউক্যালস এর নিউকট অয়েন্টমেন্ট এবং গ্র্যাক্সোস্মীথক্লাইন ফার্মাসিউটিক্যালস এর বেটনোভেন-এন অয়েন্টমেন্ট টি ব্যবহার করতে পারেন। যার গ্রুপ নাম বেটামিথাসন ও নিউমাইসন। এই অয়েন্টমেন্টগুলো খুবই কার্যকরী। সর্বদা চেষ্টা করুন সাবান ও ডিটারজেন্ট এড়িয়ে চলা তবে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। কারন শ্যাপ্মুতে কার্বলিক এসিড নেই কিন্তু যে কোন সাবানে কার্বলিক এসিড বিদ্যমান। প্রতিদিনে কাপড় প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন এবং ভালো ভাবে শুকিয়ে তারপরে পরিধান করার চেষ্টা করবেন। লক্ষ্য রাখবেন যেন অর্ধেক ভেজা কাপড় অথবা সাবান দিয়ে ধৌত করা কাপড়ে যেন সাবানের পাঊডার জমা না থাকে।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here