স্লিম হওয়ার সহজ উপায়

0
331
স্লিম হওয়ার সহজ উপায়
স্লিম হওয়ার সহজ উপায়

বর্তমান যুগে অধিকাংশ মানুষের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় আর এই বেশি হওয়াটাই সমস্যা। স্বাভাবিকের চেয়ে ওজন কম হওয়া খুব একটা সমস্যা নয়। তাছাড়া ওজন বাড়ানো তেমন একটা কঠিন কাজ না। বেশি বেশি খেয়ে বেশি বেশি ঘুমালেই এমনি এমনি ওজন বাড়ার কথা। এজন্য এখানে ওজন কমানোর জন্য কিছু পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে আমরা ওজন কমাতে পারি।

ওজন কমানো বা স্লিম হওয়ার একমাত্র পন্থা হচ্ছে প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করা। ওজন কমানো মানে যতটা সম্ভব মেদ-ভুঁড়ি কমাতে হবে, মাংশপেশী কমানো লক্ষ্য নয়। বরঞ্চ মেদ-ভুঁড়ি কমিয়ে সম্ভব হলে মাংশপেশী বাড়াতে হবে।

ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণঃ

১। ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত খাবার খাওয়া।
২। অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে মানুষ মোটা হয়ে যায় বা ওজন বেড়ে যায়।
৩। শরীরে খাবারের প্রয়োজন নেই অথচ ভালো খাবার দেখলে খেতে ইচ্ছে করে।
৪। বংশগত কারণে অনেকের মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে, এটা মুলত জিনগত সমস্যা।
৫। সারাদিন শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ওজন বাড়ে, অনেকে বসে দিন কাটিয়ে দেয়।

ওজন কমানোর কৌশলঃ

১। ছোট প্লেটে খাবার খান। এতে বেশি খাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
২। আমিষ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন, মাছ, ডাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খান।
৩। প্রচুর পরিমানে ঠান্ডা বিশুদ্ধ পানি পান করুন, এতে আপনার শরীরের কোষগুলো সুস্থ থাকবে।
৪। খালি পেটে সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা চামচ মধুও এক পিস লেবু দিয়ে খেয়ে নিন।
৫। গরমে যতটা সম্ভব শশা খাবেন, কারন শশাতে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা মানুষের দেহের চর্বি কাটতে সাহায্য করে।
৬। প্রতিবেলা খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করবেন এবং সেই সাথে আঁশ বহুল খাবার বেশি করে খাবেন।
৭। মাংস বা নদীর মাছের পরিবর্তে সামুদ্রিক মাছ বেছে নিন এতে ফ্যাট কম পাবেন যা আপনার উপকারে আসবে।
৮। প্রতিবেলা খাওয়ার পর এক কাপ রং চা পান করুন। এতে আপনার খাবারের পচন করতে সাহায্য করবে।
৯। জুসের পরিবর্তে বেশি করে মৌসুমি টকজাতীয় ফল খাবেন তবে রাতে না খাওয়াই উচিত।
১০। রাতে ঘুমের আগে এক গ্লাস পানিতে দুই চা চামচ ইসবগুলের ভুসি দিয়েই খেয়ে নিন এতে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।
১১। বাইরের খাবার না খেয়ে বাসার খাবারে অভ্যস্ত হোন। এতে আপনার খাদ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী চর্বি, চিনি এবং লবণ পাবেন।

ব্যায়াম করুনঃ

হালকা ব্যায়াম থেকে আস্তে আস্তে ভারী ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। অল্প ব্যায়ামও আপনার দেহের অনেক উপকার আনতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করুন। যদি একটানা ৩০ মিনিট শরীরচর্চা না করতে পারেন, তাহলে ১০ মিনিট করে দিনে তিনবার করুন।প্রথম দিকে টানা ৩০ মিনিট পরিশ্রম করা আপনার জন্য খুব কষ্টসাধ্য হতে পারে।তাই ব্যায়ামের সময় কিছুক্ষণ বিরতি নিন। খুব ভালো হয়, যদি প্রতিদিন অল্প অল্প করে শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস করা যায়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন দৈহিক শ্রমের অভ্যাস করুন।

পেটের ব্যায়ামঃ

পেটের মাসলের স্ট্রেংথ বাড়ানোর জন্য সিট-আপস জাতীয় ব্যায়াম করতে পারেন। মাটিতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। ডান হাত বা কাঁধের ওপর এবং বাঁ হাত ডান কাঁধের ওপর রাখুন। এরপর আস্তে আস্তে শরীরের ওপরের অংশ মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করুন। মাঝামাঝি অবস্থানে যেতে কয়েক সেকেন্ড থাকুন। পরে ক্রমশ শোয়া অবস্থায় ফিরে যান।

নিয়মিত ঘুমঃ

যারা দিনে পাঁচ ঘন্টা অথবা এর চেয়ে কম ঘুমায় এবং আট ঘন্টা অথবা এর চেয়ে বেশী ঘুমায় তাদের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। তাই অবশ্যয় নিয়মিত সঠিক ভাবে ঘুমান। কারন আপনি যখন ঘুমান তখন আপনার শরীরের সমস্থ কোষ ও রক্তনালী স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করে এবং স্থির থাকে।

বিঃদ্রঃ নিয়মিত পোষ্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন সেই সাথে এই পোষ্টটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here